অন্য প্রাণী থেকে যেভাবে মানব দেহে রোগ ছড়িয়ে পড়ে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 4 February 2020

অন্য প্রাণী থেকে যেভাবে মানব দেহে রোগ ছড়িয়ে পড়ে





অতীতে হাঁস-মুরগির মতো প্রাণী থেকে মানুষের দেহে রোগ ছড়িয়েছে। সম্প্রতি চীনের উহানে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসও কো প্রাণী থেকে ছড়িয়েছে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা। রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক টিম বেনটন বলেছেন, গত ৫০ বছরে বেশ কয়েকবারই এমন হয়েছে যে কোন প্রাণীর দেহ থেকে সংক্রামক রোগের ভাইরাস মানুষের দেহে ঢুকে পড়েছে।

১৯৮০-এর দশকে বানরজাতীয় প্রাণী থেকে এইচআইভি/এইডস ভাইরাসের সূচনা হয়েছিল। ২০০৪ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এভিয়ান ফ্লু ছড়িয়েছিল পাখি থেকে। ২০০৯ সালে শূকর থেকে মানবদেহে সোয়াইন ফ্লু ছড়িয়েছিল। আর এবার করোনা ভাইরাসের জন্য দায়ী করা হচ্ছে বাদুড়কে। এর আগেও বাদুড় থেকে নিপাহ ভাইরাস ও সার্স নামের রোগ ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। গন্ধগোকুল থেকেও সার্স রোগ ছড়িয়েছে। আফ্রিকায় ছড়ানো ইবোলা রোগেরও সূচনা হয়েছিল বাদুড় থেকে। করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে ধারণা করা হয়, উহান শহরের একটি অবৈধ বন্যপ্রাণী বিক্রির বাজার থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, সাপ থেকে এবং পরে বাদুড় থেকে এ রোগ ছড়িয়েছে। মানবদেহে নতুন নতুন যেসব সংক্রমণ দেখা দেয়, তার বেশির ভাগই আসে প্রাণী, বিশেষত বন্যপ্রাণী থেকে।

বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, জলবায়ু পবিবর্তন এবং বিশ্বায়নের জন্য ভবিষ্যতে এরকম সমস্যা আরও হতে পারে, কারণ প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের প্রকৃতিও এসব কারণে বদলে যাচ্ছে।

কীভাবে এক প্রজাতি থেকে আরেক প্রজাতিতে রোগ ছড়ায়?
বেশির ভাগ প্রাণীর দেহেই বাস করে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস, যা রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এদের বলা হয় প্যাথোজেন। এই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া একরকম অণুজীব, যাদের বাসস্থান হচ্ছে অন্য প্রাণীর দেহ, আর তার লক্ষ্য হচ্ছে ক্রমাগত বংশ বৃদ্ধি করে টিকে থাকা। অন্যদিকে প্রাণীর দেহে যে রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা বা ‘ইমিউন সিস্টেম’ থাকে, তার কাজ হল এসব ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসকে মেরে ফেলা। তাই এসব অণুজীবের টিকে থাকার একটি উপায় হল নতুন নতুন হোস্ট বা নতুন প্রাণীর দেহে ছড়িয়ে পড়া।

অন্যদিকে সেই নতুন হোস্টদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থারও কাজ হচ্ছে ক্রমাগত নতুন অনুপ্রবেশকারীর মোকাবিলা করতে থাকা। এই লড়াইয়ে টিকে থাকার জন্য ভাইরাসগুলোও ক্রমাগত নিজেদের মধ্যে মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘটাতে থাকে, যাতে নতুন হোস্ট প্রাণীর ইমিউন সিস্টেম তাদের ঘায়েল করতে না পারে। সব প্রাণীর দেহেই প্যাথোজেন বনাম ইমিউন সিস্টেমের মধ্যে পরস্পরকে ধ্বংস করার এই নিরন্তর লড়াই চলতে থাকে।—বিবিসি




সূত্র: ইত্তেফাক

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad