সম্পূর্ণ বাংলা বাক্য বলতে পারছেন না বাঙালী মেয়ে
মান যে পড়ছে, তা তো বোঝা যায় বাংলা ভাষার ব্যবহার দেখে। অনেক শিক্ষিতজনের বাংলা এখন শিথিল—তা ব্যাকরণ মানে না, শুরু ও শেষের যৌক্তিক সম্পর্কটি মানে না। ভাষার অনেক রূপের নিজস্বতা মানে না (এগুলোর সংমিশ্রণ যদিও মানে), ঋণ-শব্দের কার্যকরণ মানে না। কেউ যদি প্রশ্ন তোলে, বাংলা ভাষায় বিদেশি (ইংরেজি, হিন্দি) শব্দের অকারণ অনুপ্রবেশ ঘটছে, ভাষা সে জন্য দূষিত হচ্ছে, তাকে একেবারে উনিশ শতকের ভাষা-সংস্কৃতিকে পাঠিয়ে দিয়ে এ কথা প্রমাণ করার চেষ্টা চলবে, তরুণেরা যদি এ রকম মিশ্র ভাষা ব্যবহার করে, তাহলে সেটিই বাংলা ভাষার অবধারিত ও নিয়তি নির্দিষ্ট রূপ। এটিই সময় ও সংস্কৃতির পরিক্রমায় হয়ে ওঠা বাংলা ভাষা।
কথ্য বাংলার মান নেমে যাওয়ার প্রশ্নটি না হয় বোঝা গেল— প্রতিদিনের চর্চায় এর কাঠামোগত, উচ্চারণগত এবং নান্দনিক বিচ্যুতিগুলো এখন অনস্বীকার্য (যদিও কারও কারও মতে, এখানে মান থেকেও বেশি বিবেচ্য ভাষার বিবর্তন এবং নতুন রূপে এর উদ্ভবের পেছনে সক্রিয় ঐতিহাসিক অনিবার্যতা)। কিন্তু লিখিত বাংলার? কল্পনার দিগন্তটা ছোঁয়া যায়, প্রকাশের পথগুলো ঘুরে আসা যায় যে বাংলায়, তা কি আমাদের শিক্ষার্থীদের শেখাচ্ছি আমরা? তা কি আয়ত্তে আসছে তাদের? লিখিত বাংলা কি ক্রমাগত একটা উৎকর্ষের দিকে যাচ্ছে?
No comments:
Post a Comment