রাতের ছবি দেখলে মনে হবে ভুতের নগরী। যান চালকরা হেড লাইট না জ্বালিয়ে যাত্রী নিয়ে দিব্যি চলাচল করছে। মানুষের পক্ষে তো এমন কাজ সম্ভব নয়। যান গুলি দাঁড়ানো কিংবা ডান দিক বাম দিকে যাওয়ার জন্য পিছনের সিগন্যাল আলোও জ্বালান না। অর্থাৎ রাস্তায় যান চলাচলের যত আইন আছে তার কোনওটাই মানে না এই ভুত নগরের একটি বিশেষ যানের চালকরা।
ভুতের এই নগরের বয়স কয়েক শো বছর। নাবাব সিরাজউদৌলা, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এমনকি ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্রের মত মহা মনীষীদের পায়ের ধুলো, সৈন্য সামন্ত এই নগরের মাটি ছুঁয়েছিল। কলকাতার একেবারে কাছে হওয়ায় ভুত নগরীর ওপর দিয়ে আমলা মন্ত্রী বিচারক সবাই যাতায়াত করেন।
সাধারণ মানুষের ক্ষতি হয় ভুত নগরীর ভুতুড়ে যানের বিচরণে সে হিসাব তো রাজা কস্মিন কালে করেননি। তাই পরম্পরা টিকিয়ে রেখেছেন সরকারও। যাতায়াত করতে তো তাদের কোনও সমস্যা হয় না। কারণ, রাস্তায় তো তাদের জন্য পাইক পেয়াদারা খাকি সিভিক পোশাকে আছে। ভুতুড়ে শহরের নাম বারাসত। এবার বারাসত এলো তবে সংবাদ শিরোনামে অতীতের কোনও কারণে নয়। ভুতের বিচরণে। এখানে ভুতেরা চালক হয়ে টোটো চালায়। আর মানুষ সেই ভুত চালককে বিশ্বাস করে গন্তব্যে পৌঁছায়।

No comments:
Post a Comment