আশ্চর্য লাগলেও সত্যি আজ বুধবার অস্ট্রেলিয়ায় গুলি করে মারা হবে কমপক্ষে ১০,০০০ উটকে। এমনটাই খবর সংবাদমাধ্যমে। উটগুলোকে গুলি করা হবে হেলিকপ্টার থেকে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এক আদিবাসী নেতা ওই নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া একাংশ মূলতঃ খরাপ্রবণ এলাকা। সেখানেই এওয়াইপি এলাকায় থাকেন আদিবাসীরা। জলের সন্ধানে বন্য উট এসে আদিবাসীদের জল খেয়ে ফেলছে। নষ্ট করে দিচ্ছে ঘরবাড়ি, মাঠের ফসল। পাশাপাশি মিথেন গ্যাস তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা নেয় এখানকার হাজার হাজার উট।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বন্য উটগুলিকে মারতে ভাড়া করা হচ্ছে প্রশিক্ষিত শিকারিদের। তার পরেও উট মারতে ৩-৫ দিন সময় লেগে যেতে পারে। এওয়াইপির এক আধিকারিক সংবাদমধ্যমে জানিয়েছেন, যে এলাকায় আমার থাকি সেখানে জলের খুবই অভাব। কিন্তু বন্য উটগুলি জলের সন্ধানে এসে ঘর ভেঙে দিচ্ছে। এলাকার তোলপাড় করছে।
অস্ট্রেলিয়ার বন্যপ্রাণী দফতরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এইসস উটদের বংশবৃদ্ধি যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে এরা প্রতি ৯ বছরে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধির জন্যও এদের বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতি বছর এরা যে বর্জ্য ত্যাগ করে তা ১ টন কার্বন ডাই অক্সাইডের সমান।
এওয়াইপির নির্বাহী বোর্ডের সদস্য মারিতা বেকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আমরা যে অঞ্চলে থাকি সেখানে খুব গরম পড়ে। খুবই অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে আছি। এর মধ্যে উটগুলোর উৎপাত আমাদের বিষিয়ে তুলেছে। তারা জলের জন্য ঘরবাড়িতে হানা দিচ্ছে, বেড়া ভেঙে দিচ্ছে। ক্ষেত মাড়িয়ে এসে ফসলের ক্ষতি করছে।
দেশটির জাতীয় বন্য উট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিভাগের দাবি, এই উটদের সংখ্যা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে প্রতি নয় বছরে সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যও উট দায়ী। প্রতি বছর তাদের মলমূত্র থেকে যে পরিমাণ মিথেন গ্যাস বের হয় তা এক টন কার্বনডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ।
কার্বনডাই অক্সাইড নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কার্বন ফার্মিং স্পেশালিস্টস রিজেনকোর প্রধান নির্বাহী টিম মুরে বলেন, এক মিলিয়ন উট প্রতিবছর এক টনের সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। অর্থাৎ, ৪ লাখ গাড়ি থেকে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, সেই পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড সৃষ্টির জন্য দায়ী উট। অবশ্য দেশটির জ্বালানি ও পরিবেশ বিভাগ বলছে, বন্য উটগুলো যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ করছে, তা দেশের হিসাবে আসবে না। কারণ তারা গৃহপালিত না।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

No comments:
Post a Comment