নিজস্ব সংবাদদাতাঃ দিলীপ ঘোষের অ্যাম্বুলেন্স কাণ্ড নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন। অভিযোগ, গত ৬ জানুয়ারি কৃষ্ণনগরে অভিনন্দন যাত্রা শেষে জেলা শাসকের অফিসের সামনে সভা করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর ভাষণ চলাকালীন একটি অ্যাম্বুলেন্স সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এখান দিয়ে না গিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে। আর তাঁর সেই ভিডিও চোখের পলকেই নেট পাড়ায় হৈচৈ ফেলে দেয়। রাজনৈতিক মহলেও ওঠে নিন্দার ঝড়।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রাপথে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য কৃষ্ণনগর কোতয়ালি থানায় দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে অভিযোগ। কারণ ঐ অ্যাম্বুলেন্সে সেদিন ছিলেন প্রসব যন্ত্রণায় কাতর এক প্রসূতি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভা চলাকালীন সেই জায়গায় প্রচুর যানজট থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি কোনও ভাবেই যেতে পারছিল না। এমনকি সেখানে উপস্থিত কেউই অ্যাম্বুলেন্স যাওয়ার পথ সুগম করে দিতে এগিয়ে আসেননি। বিষয়টি বঙ্গ বিজেপি সভাপতিরও দৃষ্টি এড়ায়নি। কিন্তু এরপরেও তিনি সহযোগীতার পরিবর্তে বলেন, " এখানে দিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। রাস্তায় লোক রয়েছে, তাদের ডিস্টার্ব হবে। অন্য দিক দিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে যান।" তার এহেন অবিবেচকের মত কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই সকলে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, কীভাবে একজন সাংসদ এমন অমানবিক হতে পারেন!
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেদিন অ্যাম্বুলেন্সে পাপিয়া মঞ্জিরা বিবি নামে প্রসূতি ছিলেন, তিনি ধুবুলিয়ার বাসিন্দা। সেদিন কৃষ্ণনগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাকে। সেই সময়ই এই ঘটনা ঘটে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। যদিও প্রসূতির বয়ান এখনও মেলেনি।
তবে অ্যাম্বুলেন্স বিতর্কে দিলীপ বাবু বলেন, “এ রাজ্যে অ্যাম্বুল্যান্সে করে নেশার দ্রব্য, বোমা পাচার করা হয়। সভা বানচাল করতে ওই এলাকায় ফাঁকা অ্যাম্বুল্যান্সটি পাঠানো হয়েছিল।” কিন্তু নেট জনতার দাবি, অ্যাম্বুল্যান্স মোটেও ফাঁকা ছিল না। ‘অমানবিক’ কাজের দায় এড়াতে একথা বলছেন দিলীপ ঘোষ। প্রসূতি থাকার কথা ছড়িয়ে পরতেই অনেকে আবার বলছেন, হয়তো মুসলিম বলে বিজেপি নেতা অ্যাম্বুল্যান্স আটকেছিলেন। কারণ সেদিন সভায় উপস্থিত প্রত্যেক কর্মী-সমর্থক দিলীপ ঘোষের এই ‘অমানবিক’ কাজে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছিলেন।

No comments:
Post a Comment