প্রতীকী ছবি
কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরাতন মালদহ থানার সোনাঝুরি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে দুষ্কৃতকারীরা। যদিও উদ্ধার হওয়া ওই কিশোরীর পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ।
কিশোরীর মরদেহের পাশ থেকে একটি স্কুল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, অজ্ঞাত ওই কিশোরী স্কুল শিক্ষার্থী হতে পারে। ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর পরনে জামা এবং লেগিন্স ছিল।
সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপনাঙ্গে রক্ত লেগে থাকতে দেখতে পেয়েছে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে ধর্ষণ করে হত্যা কিনা তা অবশ্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।
পুলিশ বলছে, সোনাঝুরি গ্রামের একটি সীমানা প্রাচীরে ঘেরা আমবাগানের মধ্যে থেকেই গলায় ওড়না জড়ানো ঝুলন্ত ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। মরদেহের পাশে একটি স্কুল ব্যাগ পড়েছিল। ওই ব্যাগ থেকে একটি লাল সোয়েটার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তবে কিছু কাগজ ওই মরদেহের পাশে আগুনে পোড়া অবস্থায় দেখতে পেয়েছে তদন্তকারী পুলিশ। তা থেকে পুলিশের অনুমান, প্রমাণ লোপাটের কারণে হয়তো দুষ্কৃতিরা ওই নাবালিকার ব্যাগে থাকা পরিচয়পত্র অথবা প্রয়োজনীয় কিছু নথি পুড়িয়ে ফেলেছে।
আগুনে পোড়া একটি কাগজের টুকরোতে শ্রীরামপুর হাইস্কুল লেখাটি দেখতে পেয়েছে পুলিশ। এখন এই শ্রীরামপুর এলাকাটি কোথায়, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুরাতন মালদহ থানার পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আজ সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ সোনাঝুরি গ্রামের কয়েকজন নারী জ্বালানির কাঠ ও শুকনো পাতা কুড়াতে আম বাগানে এসেছিল। তারাই ওই কিশোরীর দেহ আম বাগানের একটি ডালে ঝুলতে দেখেন। এরপরই গ্রামজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তদন্তে যায় পুরাতন মালদহ থানার পুলিশ।
পুলিশ বলছে, যে বাগানে ওই কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। সেই বাগানটি প্রায় ৮ ফিটের কংক্রিটের পাঁচিলে ঘেরা রয়েছে। কিভাবে ওই কিশোরী এত উঁচু প্রাচীর টপকে বাগানের ভেতরে গেল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি ওই বাগান মালিকের খোঁজ শুরু করেছে তদন্তকারী পুলিশ।
স্থানীয়রা বলছেন, ওই কিশোরীর দেহের হাঁটুর ওপরে রক্ত লেগেছিল। মৃতের পা দুটিও মাটিতে ঠেকানো অবস্থায় ছিল। তা থেকেই স্থানীয় গ্রামবাসীদের ধারণা, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছে দুষ্কৃতকারীরা।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

No comments:
Post a Comment