কলকাতা জুড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলেছে কাল সারাদিন। কিন্তু তার মধ্যেই রাজভবনে গিয়ে মোদির সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
মোদির সঙ্গে ওই সংক্ষিপ্ত বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী রানি রাসমনি রোডে নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভ মঞ্চে যোগ দেন। সেখানেও তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে এসেছি নাগরিকত্ব আইন প্রত্যাহার করে নিন। ওই আইন নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। আমরা তা মানছি না।"
মমতা বলেন, "দেশের মানুষ এই কালো আইন মানে না। আমরা সিএএ এর বিরোধিতা করেছি, করবো ... ক্যা ক্যা, ছি ছি। মমতার সাথে স্লোগান দেন হাজারও মানুষ।
যদিও মমতা মোদি বিরোধিতার জিকির জারি রাখলেন, বাম দলগুলো এবং কংগ্রেস দাবি করেছে, মমতা মোদির মিটিংয়ে সেটিং হয়ে গেছে।
সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম বলেন, সবাই জানে ওই মিটিংয়ে কী সেটিং হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলছিলেন ক্যা ক্যা ছি ছি। আর আজকে হয়ে গেল কা-ছা-কা-ছি।
সেলিম আরও বলেন, যখন সারা শহর মোদির বিরোধিতা করছিল, তখন মমতা মোদির কাছে গেলেন। এ কথা সত্য যে আজ কলকাতা অভূতপূর্ব বিক্ষোভ দেখল। শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয়, সাধারণ মানুষ ছাত্র-ছাত্রীরাও আজ পথে নামে। মমতা যখন মোদির সাথে রাজভবনে মিটিং করছিলেন, অদূরে ধর্মতলায় ছাত্রছাত্রীরা 'গো ব্যাক মোদি' স্লোগান দেয়। আজ মোদি এবং মমতার মিটিং ছিল একান্ত। এ ধরনের একান্ত আলাপে কি কথা হয় তা শুধু দু'জন ছাড়া কেউ জানতে পারে না।
মমতা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের ৩৮ হাজার কোটি টাকা পাওনা আছে কেন্দ্রের কাছে। আমরা বলেছি, রাজ্যের পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হোক। সেই সঙ্গে নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি এবং এনপিআর নিয়ে আমাদের আপত্তির কথা জানিয়েছি।
তার কথায়, "আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, মানুষে মানুষে বৈষম্য হওয়া উচিৎ নয়। কোন মানুষ যেন অত্যাচারিত না হয়। আপনারা ভাবনা চিন্তা করুন।"
মমতার বক্তব্যকে অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন বিরোধীরা। মোদি-মমতা বৈঠক নিয়ে জোর সমালোচনা শুরু করে দিয়েছেন বাম এবং কংগ্রেস নেতারা।
কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, এ বৈঠক ছিল আসলে সেটিংয়ে মিটিং। দিদি এবং মোদি আসলে এক দিকে। সেটা প্রমাণিত হল।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

No comments:
Post a Comment