১৪ মাসের সন্তানের চিকিৎসার জন্য কাতর আর্জি রায়গঞ্জের ভৌমিক দম্পতির - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 17 January 2020

১৪ মাসের সন্তানের চিকিৎসার জন্য কাতর আর্জি রায়গঞ্জের ভৌমিক দম্পতির



নিজস্ব সংবাদদাতাঃ মাত্র চোদ্দ মাস বয়সের পুত্র সন্তানের নাভির পাশে প্রতিদিন তিনবেলা করে সুঁচ ফুটিয়ে ইনসুলিন দিতে বুক ফেটে কান্না বের হয়। তবুও রক্ষা করা যাচ্ছে না কোলের সন্তানকে।  প্রয়োজন উন্নত চিকিৎসার যা করতে তাদের ছেলেকে নিয়ে যেতে হবে সুদূর ব্যাঙ্গালোরে।  কিন্তু হতদরিদ্র দিনমজুর বাবার কাছে সেটা দুঃস্বপ্নের।  তাই রায়গঞ্জের পশ্চিম মিলনপাড়ার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রীর লেবার মানিক ভৌমিক ও গৃহবধূ শ্রীমতী ভৌমিকের সকলের কাছে কাতর আর্জি আর্থিক সাহায্যের। মানুষ তাদের আর্থিক সাহায্য করলে চিকিৎসা করাতে পারবেন ১৪ মাস বয়সী ৭০০ সুগারের রোগী মনীশের। হতদরিদ্র বাবা-মায়ের দুই ছেলে নিয়ে সংসার প্রতিপালন করাই দুঃসাধ্য, সেখানে কিভাবে কোলের ছোট্ট শিশুর অর্থ খরচ করে ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাবেন তা ভেবেই অকুল পাথারে ভৌমিক দম্পতি।  পাড়ায়-পাড়ায়, দুয়ারে-দুয়ারে ছেলের চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্যের জন্য ছুটে চলেছেন তাঁরা।

বড় ছেলের শুভমের বয়স মাত্র পাঁচ বছর,  আর ছোটটা মনীশ,  কোলেরটা মাত্র ১৪ মাস বয়স। কাঠমিস্ত্রীর লেবারের কাজ করে যা রোজগার হয়, তাতে কোনওমতে দিন গুজরান চলে তাদের। গোটা বাড়ী জুড়ে দৈন্যদশার ছাপ স্পষ্ট।  এরই মধ্যে গত ২১ শে ডিসেম্বর ছোট সন্তান মনীশ খেলতে খেলতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বুকে জড়িয়ে নিয়ে ছুটে যান রায়গঞ্জ গভর্মেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।  সেখান থেকে তৎক্ষনাৎ মনীশকে স্থানান্তর করে দেওয়া হয় মালদাতে। মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাথে সাথেই আইসিইউতে ভর্তি করে নেওয়া হয় মনীশকে। চিকিৎসকেরা জানতে পারেন ১৪ মাস বয়সী মনীশ হাই সুগারে আক্রান্ত। ৭০০ সুগারের রোগী ছোট্ট শিশু মনীশকে দিনে তিনবার ইনসুলিন দেওয়া শুরু হয়। ইনসুলিন বাড়ীতে রাখার মতো রেফ্রিজারেটর নেই তাদের, বরফে ঢেকে রাখতে হচ্চে ইনসুলিন। বুকে পাথর চাপা দিয়ে দুধের এই শিশুকে রোজ তিনবার করে তলপেটে দিতে  হচ্ছে সুঁই ফুটিয়ে ইনসুলিন।  কিন্তু তাতেও নিরাময়ের কোনও লক্ষন না দেখায় মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎকেরা মনীশের বাবা দিনমজুর মানিক ভৌমিককে জানিয়ে দেন, ব্যাঙ্গালোরে ছাড়া এই রোগের চিকিৎসা সম্ভব নয়। চিকিৎসকদের মুখে এই কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে মানিক ও শ্রীমতী ভৌমিকের।  তাদের দুই সন্তান নিয়ে তো দুবেলা পেট ভরে খেতেও পাননা, ব্যাঙ্গালোরের মতো ভিনরাজ্যে গিয়ে কিভাবে ছোট্ট শিশুর চিকিৎসা করাবেন তাঁরা! ব্যাঙ্গালোরে গিয়ে ছোট্ট শিশুর চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে অর্থ সাহায্যের আবেদন করেন ভৌমিক দম্পতি।  অর্থ সংগ্রহের জন্য এপাড়া থেকে ওপাড়া, দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।  কিন্তু তাতেও জোগাড় হচ্ছেনা চিকিৎসার খরচ। তাহলে কি চোদ্দ মাস বয়সেই নিভে যাবে যাবে মনীশের জীবন দ্বীপ। ডুকরে ডুকরে কেঁদে মা শ্রীমতী দেবীর কাতর আর্জি, সকলে মিলে একটু একটু করে অর্থ সাহায্য করে তাঁর  দুধের শিশু মনীশকে ফিরিয়ে আনুন সুস্থ জীবনে।


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad