নিজস্ব সংবাদদাতাঃ একই দিনে একই সময়ে শহরের পাশাপাশি দুই ওয়ার্ডে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালো এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যার পর রায়গঞ্জের দেবীনগর এবং বীরনগর এলাকা। এদিন আগ্নেয়াস্ত্রধারী একদল দুষ্কৃতি রায়গঞ্জে দেবীনগরের ২৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অপু মজুমদার নামে রাজ্য আবগারি দফতরের মহিলা কর্মীর বাড়িতে ঢুকে হাত সাফাই সারল চোরেরা। এদিকে এলাকাবাসীরা তাদের ধাওয়া করলে স্থানীয় এক যুবককে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতিরা গুলি করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। এদিন সন্ধ্যায় কর্মস্থল কর্নজোড়া থেকে বাড়ি ফিরে দেখে মূল গেটের তালা ভাঙা এবং দরজার তালা ভাঙা অবস্থায় দেখে চিৎকার করতেই ঘরে লুকিয়ে থাকা তিন দুস্কৃতি সজোরে দৌড়ে পালিয়ে যেতে থাকে। সে সময় ওই মহিলার প্রতিবেশী এক যুবক তাদের পিছু নিলে ওই দুষ্কৃতীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
এদিন মহিলা কর্মী অপু মজুমদার জানান, "আমার কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে দরজার তালা ভেঙে ঢুকে সব তছনছ করেছে। ঘর থেকে প্রায় ৫ভরি সোনা এবং নগদ প্রায় ৩৫হাজার টাকা খোয়া গেছে।" এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ২৭নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর প্রসেনজিৎ সরকার। একদল যুবক নেশাগ্ৰস্ত অবস্থায় রায়গঞ্জ শহর জুড়ে মাঝেমধ্যে এই ধরনের চুরি এবং ডাকাতির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। এদিন প্রসেনজিৎ বাবু বলেন, "আমরা এর আগেও নেশা বিরোধী আন্দোলন করেছিলাম। পুলিশ উদ্যোগ নিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছিল। কিন্তু মানুষের শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে যুবসমাজ নেশার কবলে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং এই ধরনের চুরি-ডাকাতি বেড়ে চলেছে। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে বলব আরও কঠোর হাতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।"
অপরদিকে এদিন সন্ধ্যা রাতে রায়গঞ্জ শহরের বীরনগর এলাকার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে ঠিক একই সময়ে আরও একটি চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বাড়িতে এক বৃদ্ধা থাকতেন। কিন্তু কিছুদিন যাবত অসুস্থতার কারণে তিনি বাইরে আত্মীয়র বাড়ি রয়েছেন। এদিন সন্ধ্যায় তার ঘরের ভেতরে আলো জ্বলছে দেখে প্রতিবেশীরা চিৎকার শুরু করতেই দুষ্কৃতিরা সেখান থেকে পলায়ন করে। এদিনের দুটি ঘটনাতেই সরজমিনে খতিয়ে দেখতে হাজির হয় রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। তবে এখনও দুষ্কৃতিদের কোন হদিস না পেলেও এখনও তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার সুমিত কুমার।
No comments:
Post a Comment