বালুরঘাট এয়ারপোর্টে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 16 January 2020

বালুরঘাট এয়ারপোর্টে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ




নিজস্ব সংবাদদাতাঃ  কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বালুরঘাট এয়ারপোর্টে সীমানা প্রাচীর নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ। অভিযোগ সামনে আসতেই তদন্তের দাবী সাংসদ-এর।  সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বালুরঘাট এয়ারপোর্টের সীমানা নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, অভিযোগ এয়ারপোর্টের প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে লাল বালির পরিবর্তে সাদা বালি দিয়ে। আরও অভিযোগ, ঠিকাদারের সঙ্গে  পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের যোগসাজশের কারনেই নাকি এবিষয়ে উদাসীন পূর্ত আধিকারিকরা।

বালুরঘাট এয়ারপোর্টের রানওয়ে তৈরীর কাজ বর্তমানে সমাপ্ত, কবে বালুরঘাট এয়ারপোর্ট থকে উড়বে বিমান, সেই প্রতিক্ষায় রয়েছেন জেলাবাসী। বর্তমানে বালুরঘাট এয়ারপোর্টের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পূর্ত দপ্তর টেন্ডার ডেকে এক ঠিকাদার সংস্থাকে এয়ারপোর্টের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বরাত দেয়। বালুরঘাটের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বরাত পাওয়া ঐ ঠিকাদার সংস্থা এয়ারপোর্টের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে এবং সেখানে লাল বালির পরিবর্তে নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে সাদা বালি। যদিও এরকম চলতে থাকলেও এই বিষয়ে কেন মুখ ঘুরিয়ে বালুরঘাটের পূর্ত আধিকারিকরা, সেই বিষয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন বালুরঘাটের একাধিক মানুষ। একই সঙ্গে এও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, পূর্ত আধিকারিকরা সব জেনেও চুপ করে আছেন কি কারনে। এমনকি নির্মাণ কাজ বিষয়ক জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে অনেকে ঐ এলাকায় কাজের বোর্ড দেখতে না পাওয়ার কারনে সাধারণ মানুষদের অনেকেই বরাত পাওয়া ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গে পূর্ত আধিকারিকদের অসাধু যোগসাজশেরও আশঙ্কায় আশঙ্কিত। বর্তমানে এয়ারপোর্টের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ প্রায় অর্ধেকের বেশী সমাপ্ত হয়ে গেছে। সুতরাং এমত অবস্থায় সাধারণ মানুষরা আশঙ্কা করছেন যদি পুরো প্রাচীরটা নির্মাণ করতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাহলে যেকোন সময় তা ভেঙ্গে পড়তে পারে।

মাহিনগর এলাকার বাসিন্দা সুষেন চক্রবর্তী বলেন, লাল বালি-সাদা বালির কাজে পার্থক্য আছে। পাশাপাশি বিষয়টিতে সরকারি আধিকারিকরা নজর দিক এই দাবী তুলে তিনি জানান, সরকারি টাকা মানে তো আমাদের টাকা।

সাধারণ মানুষদের অভিযোগ সামনে আসতেই বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার পূর্ত দপ্তরের অফিসাররা এর সঙ্গে যুক্ত এবং গোটা জেলা জুড়ে এই লুঠপাট চলছে বলে অভিযোগ তুলে বলেন, লাল বালি দিয়ে কাজ হওয়া উচিৎ এবং তদন্ত হওয়া উচিৎ কারা কারা এর সঙ্গে যুক্ত। সেই সঙ্গে সাংসদ সুকান্ত মজুমদার  দাবী করে এও বলেন, যদি নিয়ম মেনে কাজ না হয় তাহলে যে সমস্ত অফিসার এবং ঠিকাদার এর সঙ্গে যুক্ত তাদের সাসপেন্ড করা উচিৎ।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পূর্ত আধিকারিক অসীম কুমার নারিবুসি জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন। অপরদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলা শাসক নিখিল নির্মল অভিযোগের কথা জানবার পর বলেন, "আমি অবশ্যই কার্যকরী ইঞ্জিনিয়ায়ের সাথে কথা বলে তদন্ত করছি" এবং কাজের বিষয়ে পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের নজরদারী চালানোর বিষয়টাও খোঁজ নেবেন বলে জানিয়েছেন জেলা শাসক।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad