নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার:- পুলিশ হেফাজতে এক বিজেপি কর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারে। মৃত বিজেপি কর্মীর নাম রামপ্রসাদ বারুই(৭৬)। বাড়ি দিনহাটা মহকুমার গোসানিমারী।
বিজেপির কোচবিহার জেলা সভানেত্রী মালতি রাভা জানিয়েছেন, গত ৩০ শে ডিসেম্বর বিজেপির সিএএ- এর সমর্থনে রাজ্য নেতা মুকুল রায়ের নেতৃত্বে অভিনন্দন যাত্রা হয়েছিল। সেই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন রামপ্রসাদ বারুই। সেদিনই সন্ধ্যে নাগাদ তৃণমূলের সিতাই কেন্দ্রের বিধায়ক জগদীশ বসুনিয়ার ওপর হামলা হয়। অভিযোগের তীর আছে বিজেপির দিকে। পুলিশ তদন্তে নেমে রামপ্রসাদ বারুই সহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে ৩১ শে ডিসেম্বর।
পহেলা জানুয়ারি থেকে একজন বিজেপি কর্মীকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। জেলে থাকাকালীন রামপ্রসাদ বারুই- এর শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। তৎক্ষণাৎ তাকে দিনহাটা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে গেলে তাকে আবার দিনহাটা সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। জেলা সভানেত্রী মালতি রাভা রায়-এর অভিযোগ, সংশোধনাগারে তার ওপর অত্যাচার চালায় পুলিশ। গতকাল রাতে রামপ্রসাদ বাবুর অবস্থা অবনতি হয়। পুলিশ পরিবারের কাউকে না জানিয়ে কোচবিহার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। রাত একটা নাগাদ তাকে কোচবিহারে নিয়ে আসা হয়। ভোর চারটে নাগাদ তার মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কোচবিহার জেলা জুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রামপ্রসাদ বারুই-এর স্ত্রীর অভিযোগ, সংশোধনাগারে তাকে মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। এর আগে অসুস্থ থাকাকালীন পরিবারকে জানিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু এবার না জানিয়ে কেন রাতের অন্ধকারে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে! ইতিমধ্যে বিজেপি কর্মীরা রামপ্রসাদ বারুইকে দেখতে কোচবিহার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় জমান। এরপরেই কোচবিহার হরিপাল মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি নেওয়া হয়। বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল রামপ্রসাদ বারুই-এর দেহ নিয়ে দিনহাটা থানায় বিক্ষোভ দেখানো হবে। পাশাপাশি জেলার সমস্ত থানা ঘেরাও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

No comments:
Post a Comment