দেশের ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন ২৬ জানুয়ারি। ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান তৈরি হওয়ার পর তা কার্যকর করতে একটি দিনের প্রয়োজন ছিল। তখনই বেছে নেওয়া হয় এই বিশেষ দিনটি। আর বেলা বাড়তেই ভিড় জমতে শুরু করে পার্কসার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ে। ৭১তম প্রজাতন্ত্র দিবসে গোলপার্ক থেকে পার্কসার্কাস পর্যন্ত মানবন্ধন করলেন সাধারণ নাগরিকেরা।
হাতে হাত রেখে প্রতিজ্ঞা সকলের, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে একসঙ্গে থাকতে হবে। ভারত ভেঙে ভাগ করা যাবে না। সব ধর্মের মানুষ উপস্থিত ছিলেন এই বন্ধনে। হাতে জাতীয় পতাকা। 'এদেশ আমার-আপনার-সবার। আমাদের একটাই পরিচয়, আমরা ভারতীয়'। এই শপথ বাক্য নিয়েই লড়ছেন এদেশের নাগরিকেরা। কেউ কেউ আবার বলেন, ধর্ম যার যার পতাকা আমাদের সবার।
এদিকে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিপঞ্জি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তাল দেশ। সংবিধান বাঁচানোর দাবিতে দিনের পর দিন ধরে চলছে আন্দোলন। ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভাজনের লড়াই। একদিকে শাহিনবাগ, অন্যদিকে পার্ক সার্কাসে আন্দোলন চলছেই।
২০ দিন ধরে চলছে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। ৭০ বছরের শিখ ধর্মালম্বী সুখানন্দ সিং আলুওয়ালিয়া যেমন আছেন, তেমনই আছেন অরুণজ্যোতি ভিক্ষু। টালিগঞ্জের বৌদ্ধ বিহার মন্দিরের প্রধান। প্রতিবাদের পাকসার্কাস প্রজাতন্ত্র দিবসে যেন সর্বধর্মের মিলনস্থল। ধর্মের ভিত্তিতে সংবিধানে যে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার তা কোনোভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। সাফ জানিয়ে দিলেন তারা।
সরাসরি মুখে কিছু না বলে নীরবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিপঞ্জির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন তারা। পড়ুয়া, শিশু, নারী ও পুরুষ সকলেই শামিল হয়েছেন এই প্রতিবাদে। কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় যান চলাচল। গোলপার্ক থেকে পার্কসার্কাস পর্যন্ত তখন শুধুই জয় হিন্দ ধ্বনি। দিনভর আরও নানা কর্মসূচি রয়েছে পার্কসার্কাসে। অন্যদিকে এনআরসির প্রতিবাদে শাহিনবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচি জেএনইউর পড়ুয়াদের। উপস্থিত হয়েছেন উমর খালিদও।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

No comments:
Post a Comment