ঋষি কাশ্যপ , বারাসত
অনুপ্রবেশকারী ভোটই কি জয়ের ফ্যাক্টর ? বাম আমলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তালিকা নিয়ে সংসদে করা অভিযোগকে হাতিয়ার করে বিজেপি ২১এর বিধানসভা নির্বাচনে নামতে চলেছে। সেই লক্ষ্যেই সিএএ ও এনআরসি করে অনুপ্রবেশকারী ভোট ভোটার তালিকা থেকে মুছতে চলেছে মোদী সরকার। রবিবার বারাসতে মিলনির মাঠের সভা থেকে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে তা পরিস্কার।
শরণার্থী উদ্বাস্তুদের সব দল ভোটার করেছিল নাগরিক করেনি জানিয়ে দিলীপ ঘোষ জানালেন সবাইকে নাগরিকত্ব ফর্মে সই করতে হবে , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- এর কথায় ভরসা করলে ভুগতে হবে ।
এদিন রাজ্যের অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন , পশ্চিমবঙ্গে ১ কোটি অনুপ্রবেশকারী আছে।তারা এই রাজ্য সহ গোটা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। এই ১ কোটির মধ্যে ৭০ লক্ষ ভোটার হয়ে গিয়েছে। এদের ভোটের জন্য ব্যবহার করেছে তৃণমুল। ৫০ লক্ষ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে জয়ী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোট কমার ভয়েই ঘুম খাওয়া বন্ধ করে অনুপ্রবেশকারীদের সমর্থনে সিএএ বিরোধিতা করছেন মমতা।
অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে দিলীপ বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের ২ টাকা কেজি দরের চাল, বাড়ী ,টয়লেট পাওয়ার সব সুবিধা অনুপ্রবেশকারীরা নিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, যারা এদের হয়ে পাশে দাড়াবে, সুদ আর আসল সহ তাদেরও ওপারে পাঠিয়ে দেব।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পারছেন ভোটে হার নিশ্চিত তাই তিনি হেঁটে হেঁটে ঘুরছেন। ৫০ লক্ষ ভোট সরলেই দিদিমনি হারবেন । ২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমরা ২০০ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসব।
এই ইস্যুতে বুদ্ধিজীবীদেরও এক হাত নিয়ে দিলীপ বলেন, বুদ্ধিজীবীরা নিজেদের জাহির করার জন্যই বিরোধীতা করছে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের। তাই বলি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা করবেন না। যারা মুখ্যমন্ত্রীর উপর ভরসা করেছেন, তারাই ডুবেছেন। যারা ভরসা করবেন তাদের কেউ বাঁচাতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রী যাই বলুন, নাগরিকত্বের জন্য সকলকেই ফর্ম পুরন করতেই হবে। মোদি সরকার এই অফার দিয়েছেন,আপনারা সেটা গ্রহন করুন।
এদিন প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে বাংলাদেশকে বিঁধলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বিজেপি সাংসদ বলেন, সুপ্রীম কোর্টের আদেশে এনআরসি হচ্ছে। এতে বাংলাদেশ সরকার বা অন্য কারও কিছু বলার নেই।
উল্লেখ্য শনিবারই আবুধাবিতে গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনআরসি ও সিএএ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন "বাংলাদেশ সবসময় মনে করে সিএএ এবং এনআরসি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়।" তিনি আরও বলেন "আমরা জানি না ভারত সরকার কেন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এনেছে। এর কোন দরকার ছিল না।"
দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে রবিবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, "আমাদের দেশের সুপ্রিম কোর্ট এনআরসি'র আদেশ দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ সরকার বা অন্য কারো কিছু বলার নেই। সুপ্রিম কোর্টই হল শীর্ষ আদালত। তাদের আদেশ সবাইকে মানতে হবে এবং সেই মতো ভারত সরকার ও রাজ্য সরকার কাজ করে চলেছে।"
সম্প্রতি এনআরসি ও সিএএ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ.কে. আব্দুল মোমেনও। এনআরসি ও সিএএ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন "বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধু। যদিও এগুলি ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়। তবুও এই কারণে ভারতে কোন অশান্তি তৈরি হলে তাহলে তা আমাদের দেশেও প্রভাব ফেলবে।"
এরআগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সকলেই বারবার বলেছেন "এটি ভারতের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।"
অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে জয়ী হয়েছে তৃণমুল। দিলীপের এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে তৃণমুলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, দিলীপ ঘোষ একটা উন্মাদ। বদ্ধ পাগল। ওর তো পাগলা গারদে থাকার কথা।দিলীপ ঘোষকে কে এদিন মধ্যমগ্রামে নিয়ে এল। বিজেপি দলটাই পাগলের দল বলেও কটাক্ষ করেছেন জ্যোতিপ্রিয়।

No comments:
Post a Comment