ফালাকাটা বিধানসভা পুনর্দখল করতে শাসকদলের প্রস্তুতি পর্ব তুঙ্গে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 13 January 2020

ফালাকাটা বিধানসভা পুনর্দখল করতে শাসকদলের প্রস্তুতি পর্ব তুঙ্গে





নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ারঃ ফালাকাটা বিধানসভার উপ নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি।তবে তার আগেই রীতিমতো ঘর গোছাতে কোমড় বাঁধার কাজ শুরু করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার বিকেলে স্থানীয় কমিউনিটি হলে দলীয় কর্মীসভায় হাজির ছিলেন আলিপুরদুয়ারের দলীয় পর্যবেক্ষক ও শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক, সহ পর্যবেক্ষক কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু ও আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য বিশেষ দায়িত্ব প্রাপ্ত রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায়। ভীড়ে ঠাসা ওই রাজনৈতিক কর্মশালায় কর্মীদের চাঙ্গা করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন তিন মন্ত্রী।

মলয় ঘটক ও পূর্ণেন্দু বসু তাত্বিক আলোচনা করলেও দলের ভুলভ্রান্তি ও খামতি তুলে ধরতে চাঁছাছোলা ভাষায় বিশ্লেষণের পথে হাঁটেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়। তিনি পরিষ্কার ভাবে জানান "পার্টি অফিসের চার দেওয়ালে বসে ভোট অঙ্কের কাটাকুটি চালালেই নির্বাচনে জেতা যায় না। মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছানোর শপথ নিন। আর যাঁরা দলকে সামনে রেখে রোজগারের পথে নেমেছেন, দয়া করে তাঁরা অন্তরালে চলে যান। পারলে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে নিন।" মন্ত্রীর ওই আক্রমানাত্বক বক্তব্য শুনে সভায় উপস্থিত সাধারণ দলীয় সমর্থকদের মধ্য থেকে হাততালির রোল উঠলেও মঞ্চে উপস্থিত আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল নেতাদের অনেক নেতারই কপালে ভাঁজ পড়তে দেখো যায়। সেখানেই থেমে না গিয়ে রাজীব বন্দোপাধ্যায় বলেন, "আমাদের দলে সংগঠনের থেকে এখন সং বেশি। ঘরে বসে রাজনীতির দিন আর নেই। আগামী সাত দিনের মধ্যেই বিধানসভার সব ক'টি বুথের কমপক্ষে দশজন সাধারণ সক্রিয় কর্মীর নামের তালিকা, ছবি ও ফোন নম্বর সহকারে ব্লক সভাপতির কাছে বাধ্যতামূলক ভাবে জমা করতে হবে। মনে রাখবেন ওই তালিকায় যাতে নিজের পছন্দের মানুষের নাম না থাকে। আমরা প্রকৃত দলীয় কর্মীদের কাছে চাই। সুযোগ সন্ধানীদের কোন জায়গা যেন না থাকে। আমাদের দলীয় নেটওয়ার্ক ওই তালিকা গুলি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে নেবে।ফাঁকিবাজি বরদাস্ত করা হবে না।"

মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু জানান "লোকসভা আলিপুরদুয়ার কেন্দ্রে ভরাডুবির পর দলীয় জেলা সভাপতি বদল করে মৃদুল গোস্বামীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই ফালাকাটা আসন জিতে মৃদুলকেই তাঁর দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। কোন রকম অযুহাতের কথা আমরা শুনতে চাই না। না হলে পদ ছেড়ে দিতে হবে।"  মলয় ঘটক বলেন, "আত্মতুষ্টির আর কোন জায়গা নেই। নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিলে মানুষ ঠিক ক্ষমা করবেন। কিছু তো ভুল নিশ্চয়ই করেছেন আপনারা। না হলে ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে দল কীভাবে বিজেপির থেকে সাতাশ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ে? আত্ম বিশ্লেষণ করে নিজেদের ঘাটতি গুলো লিখিত আকারে জমা দিতে হবে।মুখের কথায় কাজ হবে না। আমরা কোনও ওজর শুনবো না।"

উল্লেখ করা যেতে পারে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফালাকাটার প্রয়াত বিধায়ক অনিল অধিকারি সতেরো হাজার ভোটের ব্যবধানে সিপিএম প্রার্থীকে হারিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য নির্বাচিত হন। অথচ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের ভোটের নিরিখে আলিপুরদুয়ার লোকসভার ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রে শাসক দল গেরুয়া শিবিরের কাছে সাতাশ হাজার ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। বামেরা চলে যায় তৃতীয় স্থানে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয় কাটাছেঁড়া। গত ৩১ অক্টোবর ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ফালাকাটার তৃণমূল বিধায়ক অনিল অধিকারি। তারপর থেকেই হারানো জমি পুনরুদ্ধার করতে আদাজল খেয়ে আসরে নামার সিদ্ধান্ত নেয় শাসক দল। যে কোন দিন উপনির্বাচনের নির্ঘন্ট ঘোষিত হতে পারে ধরে নিয়েই ফালাকাটায় শুরু হয়েছে তৃণমূলের ঘর গোছানোর পালা।                                                                                        

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad