নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার:- মূক-বধির প্রতিবন্ধী এক যুবতীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এলাকায়। ঘটনাটি ঘটেছে মাথাভাঙা ১নং ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গাদলেরকুঠি গ্রাম এলাকায়। ওই ঘটনার পর মূক-বধির প্রতিবন্ধী যুবতীর পরিবারের মাথাভাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পলাতক। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ।
অভিযোগ, গত রবিবার দুপুর ১২টা নাগাদ প্রতিবেশী নান্দুরা বর্মণ নামে এক ব্যক্তি মূক-বধির প্রতিবন্ধী এক যুবতীকে টেনে হেঁচড়ে পুকুরের ধারে নিয়ে গিয়ে জোড় করে তার পড়নের জামা কাপড় ছিঁড়ে দেয় এবং ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার দৃশ্য নিজের চোখে দেখেন মূক-বধির প্রতিবন্ধী যুবতীর বৌদি। ওই বৌদি চিৎকার করতে শুরু করে। চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ছুটে আসতে আসতে ওই ব্যক্তি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে সংজ্ঞা হারায় ওই মূক-বধির প্রতিবন্ধী যুবতী। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পরে তাকে নিয়ে গিয়ে মাথাভাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার দিন থেকে অভিযুক্ত নান্দুরা বর্মণ পলাতক। অভিযোগ পেয়ে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ধর্ষিতার বৌদি বলেন, "রবিবার দিনেরবেলা ১২টা নাগাদ যখন গুরু নিয়ে জমিতে বাঁধতে যাচ্ছিলাম। সেই সময় দেখি আমার মূক-বধির প্রতিবন্ধী ননদকে প্রতিবেশী নান্দুরা বর্মন নামে ওই ব্যক্তি পুকুরের ধারে নিয়ে গিয়ে জোড় করে ধর্ষণ করছিল। এই ঘটনা দেখার পর চিৎকার করতে শুরু করি, পরে বাড়ি ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। ননদ অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমরা চাই ওই ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হোক।"
ধর্ষিতার দাদা বলেন, "আমি সেদিন বাড়িতে ছিলাম না। তার পরেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে। আমি প্রতিবেশী নান্দুরা বর্মণের কঠোর শাস্তি দাবি জানাচ্ছি। আমার বোনের ইজ্জত নষ্ট করেছে। পুলিশ যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেই আশা রাখছি।"
মাথাভাঙা ১ নং ব্লকের শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গাদলেরকুঠি গ্রাম এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য অঞ্জলি বর্মন বলেন, ওই ঘটনার পর সালিশি সভা করা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আইন মোতাবেক নান্দুরা বর্মণের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানান হয়। প্রতিবেশীরাও চাইছেন ধর্ষণকারী কঠোর শাস্তি হোক এবং ফাঁসি হোক। বর্তমানে নান্দুরা বর্মন পলাতক।

No comments:
Post a Comment