মোদি-দিদি-কে একসাথে গো ব্যাক ধ্বনি - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 12 January 2020

মোদি-দিদি-কে একসাথে গো ব্যাক ধ্বনি



প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পোর্ট ট্রাস্টের ১৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন গতকাল। আজ রবিবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও থাকার কথা ছিল, কিন্তু তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফিরে যান মোদি।

কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের অনুষ্ঠানের আগে আজ সকালে বেলুর মঠের মূল মন্দিরে গিয়ে মঙ্গলারতি দেখেন মোদি। স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবাহী কক্ষে গিয়ে ধ্যানও করেন তিনি। পরে বেলুড় মঠে আয়োজিত জাতীয় যুব অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ও জাতীয় নাগরিক নিবন্ধনের (এনআরসি) বিরোধে দেশ জুড়ে আন্দোলন এখন তুঙ্গে। বঙ্গেও চলছে আন্দোলন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মোদি দুই দিনের সফরে পা রাখেন কলকাতায়।

প্রধানমন্ত্রীর কলকাতায় আগমনকে মেনে নিতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস, বাম দল, কংগ্রেস, এসইউসিআই সহ বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

গতকাল সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মোদির আগমনের প্রতিবাদ জানিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে জড়ো হন। তাঁরা মোদির উদ্দেশ্যে ‘গো-ব্যাক’ ধ্বনি দেন। প্রদর্শন করেন কালো পতাকা। দাহ করেন মোদির কুশপুত্তলিকা। এই ‘গো-ব্যাক’ ধ্বনি থেকে বাদ যাননি মমতাও।

গতকাল সন্ধ্যায় মোদি-বিরোধী এক প্রতিবাদ মিছিল হয় ধর্মতলায়। সেখানে কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এর কিছু দূরে রাণী রাসমণি অ্যাভিনিউতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিবাদ সমাবেশ চলছিল। ওই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। পরে ওই সমাবেশের সামনে আসেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা মমতার উদ্দেশ্যেও ‘গো-ব্যাক’ ধ্বনি দেন। মমতার উদ্দেশ্যে তাঁরা বলেন, ‘মমতা মিরজাফর, মোদির দালাল। মমতা মোদির সঙ্গে বোঝাপড়া করে এসেছেন। তাঁর কথা শুনব কেন?’

প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের এসব কথায় ক্ষুব্ধ হন মমতা। তিনি বলেন, ‘১০০-২০০ লোক এনে আমাকে চোখ রাঙাবেন না। আমি ডাকলে লাখ লাখ ছাত্র চলে আসবে। আমাকে ভয় দেখাবেন না।’ এই ঘটনার জেরে পুরো বঙ্গে দিনভর উত্তেজনা বিরাজ করে।

গতকাল মোদি যোগ দেন কলকাতার ওল্ড কারেন্সি ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে। এ ছাড়া তিনি কলকাতার মিলেনিয়াম পার্কে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হাওড়া সেতুর আলো ও ধ্বনি প্রকল্পের। এরপর তিনি মিলেনিয়াম পার্ক থেকে লঞ্চে করে যান ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেব ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবাহী বেলুড় মঠে। রাত কাটান বেলুড় মঠে বিদেশীদের জন্য তৈরি অতিথিশালায়। রাতে শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দ ও সারদা মাকে নিবেদন করা ভোগ গ্রহণ করেন তিনি। ভোগে ছিল লুচি, বেগুন ভাজা, আলু ভাজা ও পায়েস। মোদির সফর ঘিরে কলকাতাকে ঢেকে ফেলা হয়েছিল নিরাপত্তার চাদরে।







সূত্র: লেটেস্ট বিডি নিউজ

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad