বারাসত কালীকৃষ্ণ গার্লস হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তিকে ঘিরে উত্তাল স্কুল লাগোয়া এলাকা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 14 January 2020

বারাসত কালীকৃষ্ণ গার্লস হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তিকে ঘিরে উত্তাল স্কুল লাগোয়া এলাকা





নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বারাসত কালীকৃষ্ণ গার্লস হাই স্কুলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই  পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তিকে ঘিরে উত্তাল স্কুল লাগোয়া এলাকা। দফায় দফায় বিক্ষোভ। বিক্ষোভ স্কুলের সামনে ও পরে জাতীয় সড়কে। স্কুলের গেটে তালা পড়ায় এদিন পঠনপাঠন ওঠে  শিকেয়। প্রধান শিক্ষিকাকে ঘিরে বিক্ষোভ অভিভাবকদের। সকাল থেকে স্কূলের সামনে পথে বসে  বিক্ষোভ অবস্থানের পরে খুদে পড়ুয়ারা পালা করে দীর্ঘ সময় ধরে  অবস্থান বিক্ষোভ ও পথ অবরোধ করতে থাকে যশোর রোড ও ৩৪ ও ৩৫ নম্বর  জাতীয় সড়কের সংযোগ স্থলে । আধ ঘন্টা চলে অবরোধ  । এদিন হাই স্কূলের অন্য ক্লাসের পড়ুয়ারা ফিরে যায়  স্কুল বন্ধ দেখে ।  প্রধান শিক্ষিকা মৌসুমী সেনগুপ্ত  ভর্তি প্রক্রিয়াকরন নিয়ে নিজের অবস্থানে অটল থাকেন ও পরে স্কুলে অসুস্থ হয়ে পড়েন । তিনি জানিয়েছেন, নিয়ম না মেনে অন্যায় ভাবে ভর্তির বিপক্ষে তিনি । তাঁকে দীর্ঘ সময় অভিভাবকরা স্কুলে ঢুকতেই দেয় নি। বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নি এই বিক্ষোভ ।  জেলা স্কুল পরিদর্শক সুজিত কুমার মাইতি  বিষয়টি জানতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। মুখে যতই ডি আই বলুন, অচলাবস্থার অবসান দ্রুত ঘটবে - কিন্তু অভিভাবকরা দ্রুত সমাধান চান । অগ্নিগর্ভ অবস্থা দেখে কার্যত পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে এলাকা ছাড়েন স্কুল পরিদর্শক (ডি আই অফ  স্কুলস)।পড়ুয়া ও অভিভাবকদের অবস্থান বিক্ষোভ তথাপি চলতেই থাকে ।

এদিন উঠে আসছে   চতুর্থ থেকে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি ও স্কুল নির্দেশিকা । প্রাথমিক থেকে উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি । আর এই চাবিকাঠি পেতে  প্রাথমিক থেকে উচ্চ  বিদ্যালয়ে সরাসরি ভর্তি , দূরত্ব মেনে নিকটবর্তী পড়ুয়াদের ভর্তি আর লটারিতে ভর্তি তিনটি বিষয়ই প্রসঙ্গভুক্ত ।  আর এই তিন নিয়মের যাঁতাকলে পড়ে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।  বারাসতের কালীকৃষ্ণ গার্লস হাইস্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি নিয়ে বিভ্রাট চরমে উঠেছে। সকাল থেকেই চলেছে পড়ুয়াদের নিয়ে  অভিভাবকদের অবস্থান বিক্ষোভ । তাঁদের দাবী প্রধানশিক্ষিকা নিয়ম মেনে ভর্তি করানোর বদলে তাঁর এক্তিয়ার বহির্ভূত আইনের কথা তুলে ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ঠেলে দিচ্ছেন অন্ধকারে । তাঁরা প্রধান শিক্ষিকাকে অপসারণ করার দাবীও  তোলেন । অন্যদিকে মৌসুমী সেনগুপ্ত বলছেন, তিনি আইন মেনেই ভর্তি করাবেন । তাঁর পাল্টা অভিযোগ, বেনোজল ঢুকেছে প্রাথমিক বিভাগের বেনিয়মে । সুপারিশ বা দুর্নীতি করে যারা ঢুঁকেছিল তাঁদের ভর্তি মেনে নিতে  অন্যায় কে তিনি প্রশ্রয় দিতে নারাজ , দাবী তাঁর ।  অন্যায় ভাবে ভর্তি তিনি রুখবেনই , জানান প্রধান শিক্ষিকা। বারাসত  পৌরসভার পুরপ্রধান সুনীল মুখার্জী অবশ্য বলেছেন, প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি নিয়ে বেনিয়ম দেখার দায়িত্ব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার নয় । প্রাথমিক বিভাগের দুর্নীতি দেখতে গিয়ে মৌসুমী সেনগুপ্ত  অন্যায় করছেন । অভিভাবকদের মতই নির্দেশিকা না মানার অভিযোগ পুরপ্রধান ও আনছেন প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ।

তথ্যে উঠে আসছে , কালীকৃষ্ণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ২২৫  জনের ভর্তির কথা । এর মধ্যে প্রাথমিক বিভাগের উত্তীর্ণ ১৫৪ জন কে ভর্তি কে নিয়ে প্রধান গোলযোগ । প্রাথমিক বিভাগের ৬৯ জনের তালিকা ইতিমধ্যে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে ।  অর্থাৎ বাকি ৮৫ জনের ভর্তি নিয়ে বিভ্রান্তি । এর বাইরে  ইতিমধ্যে  হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ ১০৪ জনকে লটারি থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় ১০৪ এবং ৬৯ জনের অর্থাৎ ১৭৩ জনের  ভর্তি সুনিশ্চিত । রইল বাকি ৫২ টি আসন । প্রধান শিক্ষিকার দাবী মত পঞ্চম শ্রেণীতে ২২৫ জন ছাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও তা বাড়িয়ে মোট ছাত্রী ২৪০ অব্দি ভর্তি হতে পারে । সে ক্ষেত্রে আসন আরও ১৫ টি বাড়ানো যেতে পারে । অতএব ধরে নেওয়া যায়  ৬৭ আসনে ভর্তি বাকি । এদিকে  পথে ঘাটে ধর্ণাতে বসতে হচ্ছে একই স্কূলের ভর্তি না হওয়া ৮৫ জনকে। প্রশ্ন সুরাহা কি ? ছাত্রীদের ভর্তি ঘিরে জটিলতার সমাধান কি?

তৃণমূল নেতা ও স্থানীয় পুরপ্রধান সুনীল মুখার্জী এককথায় জানিয়েছেন ,  সবাইকে ভর্তি করতে হবে ।

কিন্তু কি বলছে শিক্ষা দপ্তর ? জটিলতা কাটার ও ছাত্রী ভবিষ্যৎ নিয়ে  সুরাহার দিশা  না দিয়ে কার্যত বিক্ষোভের মুখ থেকে নিজেকে বাঁচাতে এদিন  চম্পট দেন স্কুল পরিদর্শক । একদিকে শিক্ষাঙ্গনে চরম নৈরাজ্য চলতে থাকার জন্য প্রধান শিক্ষিকার সিদ্ধান্ত যাই হোক তাঁর ও সহ শিক্ষিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন । অভিযোগ , পুলিশও ছিল নিষ্ক্রিয় । পঠনপাঠন বন্ধ , গেটের সামনে অসহায় স্কুল শিক্ষিকা ও খুদে পড়ুয়ারা  নিজ নিজ দাবী নিয়ে নিজেদের  অবস্থানে অটল কিন্তু  কিংকর্তব্যবিমূঢ়। সামগ্রিক ভাবে একটি বিষয়ই সামনে আসছে, তা হল  শিক্ষা দপ্তরের গড়িমসি ও কালবিলম্ব । অযথা কালক্ষেপ করে ও সময় মাফিক সিদ্ধান্ত না পারার বিষয়  প্রকট হচ্ছে স্কুল পরিদর্শকের বক্তব্যে যেখানে তিনি একমাত্র ' সব মিটে যাবে ' বলছেন । কিন্তু সমস্যা কি ভাবে মিটবে আর কবে মিটবে  তার কোনও পথ তিনি দেখাতে ব্যর্থ । এই ব্যর্থতার ফলশ্রুতি পড়ুয়াদের দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতীয় সড়কে  বসে অবরোধ করা ও শিক্ষিকাদের ঘিরে ক্ষোভ বিক্ষোভ । অচলাবস্থা কি ভাবে কাটবে তা ঘিরে সকল পক্ষই বিশবাঁও জলে  ॥ ॥

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad