প্রতীকী ছবি
প্রেমে পড়লে জীবনটা একাধারে যেমন রঙিন হয়ে ওঠে, তেমনই এর প্রভাবে ব্যক্তি অন্ধ, কালা, বোবা সবই হয়ে যায়। আবার যদি এই প্রেম লাইনচ্যুত হয়ে যায়, তবে যে কোনও প্রকার দুর্ঘটনা ঘটে পুরো জীবনটাই ধ্বংস। তার ওপর এই প্রেম যদি হয় বিবাহ বহির্ভূত, তবে তো পুরো 'ঘেঁটে ঘ'। নিজেদের সাথে সাথে অপরের জীবনেও এর কুপ্রভাব পড়ে। আর ভয়ঙ্কর রকমের কাণ্ড ঘটাতেও সেই প্রেমিক যুগল পিছপা হন না। সম্প্রতি এমনই এক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানে।
রাজস্থানের ঝুনঝুনি জেলার কয়েক মাস আগে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছিল সুবোধ দেবী নামের এক নারীর। ওই নারীর আত্মীয়ের দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে সম্প্রতি পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রেমিকের সহায়তায় সাপের কামড় খাইয়ে শাশুড়িকে হত্যা করে ছেলের বউ আলপনা। সাপের ছোবল দিয়ে খুনের ঘটনায় আলপনা, তার প্রেমিক ও অপর এক অভিযুক্তকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আলপনার সঙ্গে সচিনের বিয়ে হয়েছিল ২০১৮ সালের ১২ ডিসেম্বর। সচিন ও তার ভাই চিরন্তন সেনাবাহিনীতে কাজ করেন। কাজের সূত্রে তারা বাইরে থাকেন। সুবোধ দেবীর স্বামীও কাজের জন্য বাইরে থাকতেন। রাজস্থানের ঝুনঝুনি জেলার এক গ্রামে ছেলের বউ আলপনার সঙ্গেই থাকতেন সুবোধ দেবী।
তদন্তের পর স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, স্বামী বাইরে থাকাকালীন মণীষ নামের এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে আলপনার। ফোনে প্রায়ই চলত তাদের প্রেমালাপ। তা জানতে পেরে আপত্তি জানান সুবোধ দেবী। তখনই তাকে এমন ভাবে খুন করার পরিকল্পনা করেন আলপনা ও তার প্রেমিক, যাতে কোনও সন্দেহ না হয়। সেই মতো ২০১৯ সালের জুনে সাপের কামড় দিয়ে মেরে ফেলা হয় তাকে।
কিন্তু ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর সুবোধ দেবীর আত্মীয়রা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই সামনে এল ভয়ঙ্কর এই সত্যিটা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন আলপনা ও মণীষের মধ্যে ১২৪টি ফোন কল হয়েছিল। আলপনার সঙ্গে মণীষের বন্ধু কৃষ্ণর ১৯টি ফোন কল হয়েছিল। এ ছাড়াও তাদের মধ্যে মেসেজ চালাচালিও হয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ জানতে পারে গোটা বিষয়। তার পর আলপনা, মণীষ ও কৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

No comments:
Post a Comment