সাত বছরে চোখের জল শুকিয়ে গেছে, কেউ কাঁদলেও ক্ষমা নয়: নির্ভয়ার মা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 9 January 2020

সাত বছরে চোখের জল শুকিয়ে গেছে, কেউ কাঁদলেও ক্ষমা নয়: নির্ভয়ার মা




সাত বছর পর নির্ভয়া কাণ্ডের রায় এসেছে এবং তা কার্যকরের পথে। দিল্লির ওই ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত চারজনের ফাঁসি ২২ জানুয়ারি কার্যকর করা হবে। দীর্ঘ দিন পর এ আদেশে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।

এদিকে দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বজায় থাকায় নির্ভয়ার মা বলেছেন, ‘সাত বছর ধরে কেঁদেছি আমি। চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে। পাথর হয়ে গিয়েছি। এখন কেউ এসে কেঁদে ক্ষমা চাইলেও মন গলবে না। আমার মেয়েটার সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা কোনোদিন ভুলতে পারব না। এটাই স্বস্তি অন্তত মেয়েটা বিচার পাবে।’

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির ওই গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে শিউরে ওঠে গোটা দেশ। খোদ রাজধানীতে রাতের রাস্তায় ছয়জনের হাতে গণধর্ষণের শিকার হন প্যারামেডিক্যালের তরুণ ছাত্রী। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাকে। পরে ওই নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা ‘নির্ভয়া কাণ্ড’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

আদালতে সাজা ঘোষণার আগে নির্ভয়ার মায়ের সামনে এক দোষীর মা কান্না শুরু করেন। ছেলের প্রাণভিক্ষাও চান তিনি। তবে শান্ত গলায় নির্ভয়ার মায়ের জবাব, ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে ভুলতে পারব না। যে অবস্থায় ওকে (মেয়েকে) হাসপাতালে দেখেছিলাম তা যে কতটা ভয়ানক হতে পারে হয়তো সেটা আন্দাজও করতে পারবে না কেউ। কোন হিংস্র জানোয়ার ছিঁড়ে খেলেও বোধহয় আমার মেয়েটার এমন হাল হতো না।’

নির্ভয়ার মা-বাবা দু’জনই বলেন, ‘এবার অন্তত অপরাধীরা ভয় পাবে। দেশের সব মেয়ের জন্যই এ রায় দরকার ছিল। সাত বছর আগে নিজের মেয়েকে হারিয়েছি। যতটা খারাপ অবস্থায় ওকে দেখেছি, আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা যেন আর কারও সাথে না হয়। সাত বছর ধরে তিলে তিলে মরছি। দোষীদের চরমতম শাস্তির আশায় এতদিন অপেক্ষায় ছিলাম। এবার মেয়েটা বিচার পাবে।’

দীর্ঘ সাত বছর পর নির্ভয়া কাণ্ডের রায় এসেছে। ছয়জন দোষীর মধ্যে একজন আগেই জেলের মধ্যে আত্মহত্যা করেছিল। ঘটনার সময় নাবালক থাকায় কয়েকবছর জেল খেটে ছাড়া পেয়েছে একজন। বাকি চারজনের ফাঁসির সাজা দিয়েছে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। রায় অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

নির্ভয়া কাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন- পবন গুপ্তা, অক্ষয় ঠাকুর, মুকেশ সিং এবং বিনয় শর্মা। তিহাড় জেলে তৈরি হচ্ছে নতুন ফাঁসির মঞ্চ। সেখানে একই ফাঁসির মঞ্চে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।





সূত্র: জাগো নিউজ24

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad