পুলিশের কাছে নতুন একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট ঐশী ঘোষ। গত রবিবার কলেজ ক্যাম্পাসে মুখোশধারীদের হামলায় আহত হন তিনি। তার দাবি মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই তার ওপরে হামলা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত। তিনি বলেন, ২০-৩০ জন মানুষ তাকে ঘিরে ধরে লোহার রড দিয়ে পেটায় আর শারিরীক নিপীড়নের সময় যৌন হয়রানিমূলক শব্দ ব্যবহার করে।
বর্ধিত হোস্টেল ফির প্রতিবাদে জেএনইউ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ৫ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে মুখোশধারীরা হামলা চালায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালানো ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরও চালায় তারা। মারপিটের শিকার হন ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষ। তিনি দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত তার অভিযোগ কোনও পুলিশ কর্মকর্তা নথিভুক্ত করেননি। সেকারণে নতুন অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগে ঐশী লিখেছেন, ‘২০-৩০ জন সংঘবদ্ধ লোক আমাকে টেনে একটা গাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। অনুরোধ সত্ত্বেও আমাকে ছেড়ে না দিয়ে লোহার রড দিয়ে পেটানো হলে আমি পড়ে যাই’। সেখানে উপস্থিতি মুখোশ ছাড়া এক হামলাকারীকে তিনি শনাক্ত করতে পারবেন বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধভাবে আমার ওপর হামলা করে আর লোহার রড দিয়ে একাধিক বার মাথায় বাড়ি মারে। আমি মাটিতে পড়ে যাই আর মাথা দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়। তখন তাদের কয়েক জন আমাকে লাথি দেয় আর লোহার রড দিয়ে মাথা, বুক, পিঠ সহ শরীরের অন্যান্য অংশে মারতে থাকে। ওই ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য এবং কর্মকাণ্ডে নিশ্চিত যে তারা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।’
ঐশী ঘোষের দাবি অন্য আহতদের সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিতে রওনা দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সও আটকানো হয়। পরে বাধ্য হয়ে অন্য ঘুর পথ দিয়ে তারা হাসপাতালে পৌছান বলেও দাবি করেন তিনি। ঐশীর অভিযোগ, হামলার সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে দায়িত্বরত পুলিশ নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল।
ঐশী ঘোষ বলেন, হামলা শুরুর আগে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় বিজেপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। হামলার জন্যও ওই ছাত্র সংগঠনটিকেই দায়ী করেছে শিক্ষার্থীরা। হামলার পর অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে মামলা দায়ের হলেও তিন দিন পরেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ঐশী ঘোষের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছে জেএনইউ প্রশাসন।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

No comments:
Post a Comment