আইনজীবী ইন্দিরা জাইসিং- এর মত লোকেদের জন্যই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটে: নির্ভয়ার মা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 18 January 2020

আইনজীবী ইন্দিরা জাইসিং- এর মত লোকেদের জন্যই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটে: নির্ভয়ার মা





ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত ফাঁসির দণ্ড পাওয়া ৪ আসামিকে ক্ষমা করতে বলে নির্ভয়ার মা আশা দেবীর রোষের মুখে পড়েছেন প্রখ্যাত আইনজীবী ইন্দিরা জাইসিং । যেভাবে সোনিয়া গান্ধি তার স্বামী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধির হত্যাকারীদের মধ্যে অন্যতম নলিনী মুরুগানকে ক্ষমা করেছিলেন, সেভাবেই নির্ভয়ার মা আশা দেবীকে দোষীদের ক্ষমা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।

সংবাদসংস্থা এএনআইকে বলেন ক্ষুব্ধ আশা দেবী বলেন, ইন্দিরা জাইসিং কীভাবে আমাকে এ জাতীয় পরামর্শ দেওয়ার সাহস করেছেন তা বিশ্বাস করতে পারছি না। কয়েক বছর ধরে আমার সুপ্রিম কোর্টে তার সঙ্গে অনেকবার সাক্ষাৎ হয়েছে, সেই সময় একবারও তিনি আমার কুশল সংবাদ নেননি অথচ আজ তিনি দোষীদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন। এ জাতীয় লোকেরা ধর্ষকদের সমর্থন করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করে। আর এই জন্যেই দেশে ধর্ষণের ঘটনা কমছে না।

সম্প্রতি নির্ভয়া মামলায় ৪ অভিযুক্তের ফাঁসির সাজার বিরোধিতা করে আইনজীবী ইন্দিরা জাইসিং ট্যুইট করেন, আমি আশা দেবীর কষ্টের প্রতি পুরোপুরি সহানুভূতিশীল। কিন্তু তারপরেও তাঁকে আমি অনুরোধ করবো যেভাবে সোনিয়া গান্ধি রাজীব গান্ধির অন্যতম হত্যাকারী নলিনী মুরুগানকে ক্ষমা করে তাঁর মৃত্যুদণ্ড রদ করে দেন সেভাবেই যেন এগিয়ে আসেন নির্ভয়ার মা। তিনিই পারেন এই ফাঁসি আটকাতে। আমরা সবাই আপনার (আশা দেবী) সঙ্গে রয়েছি তবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী আমরা।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে বাসের মধ্যে প্যারাম্যাডিক শিক্ষার্থী নির্ভয়াকে ছয়জন মিলে ধর্ষণ করে। পরে তাকে বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেয় তারা। এতে গুরুতর আহত হওয়া নির্ভয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় ছয় জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। তাদের এক জন মারা যাওয়ায় তাকে মামলার বাইরে রাখা হয় এবং আরেকজন ওই সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। ২০১৭ সালের ৫ মে বাকি চার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত। রায়ের পর চার আসামিই তা রিভিউয়ের আবেদন করে। গত শুক্রবার নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলার ৪ আসামির জন্য নতুন করে মৃত্যুদণ্ড পরোয়ানা জারি করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি ওই ৪ আসামির ফাঁসি হবে ভোর ৬ টায়। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ গণধর্ষণের অন্যতম আসামি মুকেশ সিংয়ের দায়ের করা প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই নতুন করে এই ফাঁসির পরোয়ানা জারি করা হয়। এর আগে বিনয় শর্মা, মুকেশ সিং, অক্ষয় কুমার সিং এবং পবন গুপ্তকে ২২ জানুয়ারি সকাল ৭ টায় দিল্লির তিহার জেলে ফাঁসিতে ঝোলানোর কথা ছিল। কিন্তু আসামি মুকেশ নতুন করে ফাঁসি মকুবের আবেদন করায় ফাঁসি পেছানো হয়।









সূত্র: ইত্তেফাক

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad