জানুন দুষ্টু মিষ্টি এই কমলা বউ-এর কথা - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 18 January 2020

জানুন দুষ্টু মিষ্টি এই কমলা বউ-এর কথা




কমলার রঙের জন্য সে কমলাবউ। দেখতে বেশ চমৎকার। টলটলে নীল মায়াবি চোখ। স্বভাবে লাজুক প্রকৃতির কিন্তু মিষ্টি গলার অধিকারী। এরা মানুষের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। দেখতে অনেকটা দোয়েল পাখির মত।  ফটিক জল ও দোয়েল পাখির ডাক নকল করতে পারে কমলাবউ।

ইংরেজি নাম Orange-headed Thrush. বৈজ্ঞানিক নাম Zoothera citrina. কোথাও কোথাও কমলা দামা নামে পরিচিত। এটি দক্ষিণ এশিয়ায় ১৫ প্রজাতির দামা পরিবারের একটি পাখি। এরা কমলাফুলি বা কমলা দোয়েল নামেও পরিচিত। এই ১৫ প্রজাতির মধ্যে কেবল কমলা দামা বাংলাদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী দুর্লভ দামা। বাকি ১৪ প্রজাতি মাঝে মাঝে, বিশেষ করে শীতকালে দেখা যায়।

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস : জগৎ- Animalia, পর্ব- কর্ডাটা, শ্রেণি: পক্ষী, বর্গ- Passeriformes, পরিবার- Turdidae, গণ- Zoothera, প্রজাতি- Z. citrina.

বর্ণনা : কমলা বউ লম্বায় ২১ থেকে ২২ সেন্টিমিটার। ওজন ৬০ গ্রাম। পুরুষ পাখি দেখতে বেশি সুন্দর। এদের মাথার চাঁদি, ঘাড় ও বুকের রং গাঢ় কমলা। আছে হালকা হলুদের ছোঁয়া ও লালচে আভা।  চোখের নিচ বরাবর তিনটি সাদা গোলাকার ফোঁটা আছে। পেট ও লেজের নিচের অংশটা সাদাটে হলুদ। পিঠ ও লেজের ওপরটা নীলচে-ধূসর। স্ত্রী পাখিও মন্দ নয়। তবে বুকের রং একটু ফিকে এবং পিঠ ও লেজ ছাইরঙা। স্ত্রী-পুরুষনির্বিশেষে ঠোঁট কালচে, পা ও আঙুল হালকা গোলাপি। মায়াবী চোখের মণি পিঙ্গল। বাচ্চাগুলোর রং গাঢ় ধূসর, তার ওপর কমলা ছোপ।

স্বভাব : এরা বেশ লাজুক। সহজে অন্য পাখির সঙ্গে ঝগড়া বা মারামারিতে জড়ায় না। ডাকাডাকিও কম করে। তবে খুব ভোরে ও সন্ধ্যায় মিষ্টি গলায় অনেক সময় ধরে ডাকে। গ্রামীণ ঝোপ-জঙ্গল, বন-বাগান বা বাঁশঝাড়ের স্যাঁতসেঁতে নির্জন পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। প্রজননের সময় ছাড়া সাধারণত একাকী ঘুরে বেড়ায়। এই পাখি সারা বছরই দু’বেলা স্নান করে।

বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়, কেঁচো এবং ফলের রস খেয়ে জীবন ধারণ করে। এরা উপকারী ও গায়ক পাখিও বটে। কেননা পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশকে সুন্দর রাখে।

প্রজননকাল : এপ্রিল থেকে জুন প্রজননকাল। ঘন পাতাওয়ালা গাছের দুই ডালের ফাঁকে শুকনা পাতা, ঘাস, সরু শিকড় ও মাটি দিয়ে চায়ের পেয়ালার মতো বেশ মজবুত করে বাড়ী বানায়। স্ত্রী ও পুরুষ পাখি মিলে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে বাসা তৈরি করে। বাসা বাঁধার সময় পুরুষ পাখি পাতার ঝোঁপঝাড়ে লুকিয়ে লুকিয়ে আনন্দে গান করে। স্ত্রী কমলাবউ তিন-চারটি ডিম পাড়ে। ডিমের রং গোলাপির উপর নীলের ফিকে আভা। ডিম থেকে ১৩ -১৪ দিনের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। বাচ্চারা উড়তে শেখার আগেই লাফিয়ে বাসা থেকে মাটিতে নেমে যায় এরপর বাবা-মার পেছনে ঘুরে ঘুরে খাবার খায়। এই পাখি অল্প খাবারে তুষ্ট থাকে।








সূত্র: বিডি নিউজ আওয়ার24

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad