শীতের এই দিনে উষ্ণতার আমেজ নিতে কাটে সারাবেলা। সচেতনতার কমতি থাকা চলে না এতটুকুও। বড়-ছোট সবারই চাই বাড়তি যত্ন। কারণ আবহাওয়ার এই বিশেষ সময়ে হাত পা মেলে থাকে ভাইরাস। একটু অসচেতন হলেই সর্দি, জ্বর, মাথাব্যথা নিয়ে বিছানায় যেতে হয়। এদিকে শিশুদের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের চেয়ে কম থাকে। তাই তাদের জন্য সময়টা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অনেক সময় দেখা যায়, শিশু সামান্য সর্দি, জ্বর বা কাশিতে আক্রান্ত হলেই বাবা-মায়ের উৎকণ্ঠার শেষ থাকে না। ডাক্তারের কাছে গিয়ে ব্যবস্থাপত্র নেওয়ারও তর সয় না তাদের। নিজেদের কাছে থাকা কোনো ট্যাবলেট বা সিরাপ খাইয়ে শিশুর প্রাথমিক চিকিৎসাটা সেরে নেন। এতে শিশুর জ্বর বা কাশি দ্রুত সেরে যায়। ফলে যতবার তার শরীর একটু খারাপ হয়, বাবা-মা ততবার একই কাজ করেন।
এসব ক্ষেত্রে দেখা গেছে, শিশুর জ্বর, সর্দি, কাশিতে দ্রুত সেরে ওঠার যে ওষুধ বাবা-মা ব্যবহার করছেন তা মূলতঃ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি। যেমন ধরুন, কাফ-সিরাপ বা প্যারাসিটামল। এসব ওষুধে ব্যবহৃত উপাদান বড়দের শরীরের জন্য উপযোগী হলেও, ছোটদের জন্য তা ক্ষতিকর। প্রাথমিক অবস্থায় উপকার পাওয়া গেলেও ভবিষ্যতে শিশুর দেহের জন্য এই ওষুধই ভয়াবহ রূপ নেয়, যার জন্য বাবা-মায়ের সামান্য অসচেতনতায় দায়ি।
এই ধরনের অভ্যাস যদি আপনার থাকে, তবে অবিলম্বে তা বন্ধ করুন। আপনার অবহেলায় বাচ্চার ক্ষতি কখনই কাম্য নয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেটের অর্ধেকও কোন শিশুকে খাওয়ালে, তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবে ভয়াবহ।
মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই আম্বানি হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ তনু সিঙ্ঘল বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্কদের ওষুধ আমরা কখনও শিশুদের উপর প্রয়োগ করি না। কারণ প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য তৈরি ওষুধের রাসায়নিক ফর্মুলা বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে খাপ খায় না। এর জেরে শিশুরা নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হয়’।
চিকিৎসকরা প্রাপ্তবয়স্কদের ওষুধ অর্ধেক ডোজ পর্যন্তও শিশুদের খাওয়াতে নিষেধ করছেন। বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ পিসি অ্যালেকজান্ডারের পরামর্শ অনুযায়ী, শিশুদের কখনও একজন পূর্ণবয়স্কের সঙ্গে তুলনা করা উচিৎ নয়। এতে সাময়িক ভাবে বাচ্চাটি যদি সুস্থ হয়েও যায়, ভবিষ্যতে বিপদের আশঙ্কা থেকে যায়। তাই আপনার বাচ্চার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আজই উচিৎ সাবধান হওয়া।
সূত্র: হেলথ ব্লগ

No comments:
Post a Comment