দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ৫ জানুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় মুখোশধারী প্রায় একশ লোকের লাঠি, রড, পাথর ভাঙা বড় হাতুড়ি নিয়ে তিন ঘণ্টার হামলায় ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক মিলিয়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। এই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭.৩০টায় জেএনইউতে পৌঁছান দীপিকা পাড়ুকোন। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট জনসভায় থাকেন। ছাত্র সংসদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও মন্তব্য করেননি দীপিকা পাড়ুকোন।
দীপিকা পাড়ুকোন জেএনইউর জনসভায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় ক্যামেরাবন্দি হন। সেই ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। জেএনইউ যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভক্তরা তার প্রশংসা করে ছবিগুলো শেয়ার করছেন।
আর এভাবে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানোর মূল্য চোকাতে হবে তাঁকে। দীপিকার জেএনইউয়ে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসত আসতেই তাঁর আসন্ন সিনেমা ‘ছপক’ বয়কটের ডাক দিয়ে বসলেন এক বিজেপি নেতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্যুইটও করলেন। এছাড়াও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং #BoycottChhapak হ্যাশট্যাগ। যা দেখে সাধারণ নেটিজেনরা বলতে শুরু করেছেন, ‘সবই বিজেপির আইটি সেলের কামাল’।
এদিন দীপিকার জেএনইউ যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ট্যুইট করেন দিল্লি বিজেপির মুখপাত্র তাজিন্দর পাল সিং বগ্গা। লেখেন, ‘আফজল গ্যাং এবং টুকরে টুকরে গ্যাং–কে সমর্থন করার জন্য আপনি যদি দীপিকার সিনেমা বয়কট করেন, তাহলে আপনি ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’ অর্থাৎ বিজেপির বিপক্ষে গিয়ে কানহাইয়া–ঐশীদের সমর্থন জানাতেই এবার দীপিকার সিনেমা বয়কটে সোচ্চার হলেন খোদ বিজেপিরই মুখপাত্র। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিজেপির একাধিক সদস্য দীপিকার সিনেমা বয়কটের ডাক দিয়েছেন, যা নিয়ে পাল্টা আলোচনা- সমালোচনা নেটিজেনদের গলাতেও।
প্রসঙ্গত, ১০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে দীপিকার ‘ছপাক’। অ্যাসিড–সন্ত্রাসের শিকার লক্ষ্মী আগারওয়ালের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি ছবিটি। ছবিতে লক্ষ্মীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপিকা। মেঘনা গুলজার ছবিটি পরিচালনা করেছেন। দীপিকার বিপরীতে দেখা যাবে বিক্রান্ত মাসেইকে।
সূত্র: চ্যানেলআই

No comments:
Post a Comment