জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি (জেএনইউ)তে দুষ্কৃতির তাণ্ডবের সময় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিজেপিকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
আজ সোমবার তিনি বলেন, দিল্লি পুলিশ মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের হাতে নয়, কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন। একদিকে যখন ওরা বিজেপির গুন্ডাদের পাঠিয়েছিল তাণ্ডব চালাতে, তখন পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকতে নির্দেশ দিয়েছিল।
মমতা আরও বলেন, পুলিশ কী করবে যদি তাদের উপরতলা থেকে নির্দেশ আসে? এটা তো ফ্যাসিবাদী সার্জিকাল স্ট্রাইক।
ছাত্র রাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করায় ছাত্র রাজনীতি তিনি ভালোই বোঝেন বলে জানিয়ে মমতার অভিযোগ, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার শুধু ছাত্রছাত্রীদেরই নয়, অধ্যাপকদের উপরও অত্যাচার করছে।
বরাবরই ছাত্র আন্দোলনকে সমর্থন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা যে বিরোধিতা শুরু করেছিল, তার প্রতিটিতেই তার অকুণ্ঠ সমর্থন ছিল।
জামিয়া মিলিয়া হোক কিংবা যাদবপুর, মুখ্যমন্ত্রীর সমর্থন পেয়ে গিয়েছেন সিএএ বিরোধী ছাত্রছাত্রীরা। রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের তাণ্ডব এবং ছাত্র সংসদের সভাপতি ঐশী ঘোষের মাথা ফেটে যাওয়ার রক্তাক্ত ছবি দেখে, তখনই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেছিলেন যে, জেএনইউতে আক্রান্ত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে দিল্লি যাচ্ছে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল।
সোমবার দিনের শুরুতেই সেই প্রতিক্রিয়া আরও ধারালো করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তার স্পষ্ট বক্তব্য, "এটা ফ্যাসিস্ট সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নষ্ট করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। জেএনইউতে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে পরিকল্পনা করে তাণ্ডব চালিয়েছে বহিরাগতরা। আমরা এর তীব্র নিন্দা করি। আমার প্রতিনিধিদল যাচ্ছে দিল্লিতে, ওদের পাশে দাঁড়াতে। সবরকমভাবে ওদের সমর্থন করব। বিজেপি বিরোধিতায় ছাত্রসমাজকে একজোট হতে হবে। সংঘবদ্ধ হয়ে লড়াই চালাতে হবে।"
মুখ্যমন্ত্রী তার ট্যুইটারে লিখেছেন, কোন শব্দ দিয়েই এই ঘটনার ব্যাখ্যা করা যায় না। এটা গণতন্ত্রের লজ্জা। জেএনইউ ও শাহিনবাগ, দুই আন্দোলনেরই পাশে দাঁড়াতে তৃণমূল সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে এক দল প্রতিনিধি দিল্লি যাচ্ছেন।
অন্যদিকে জেএনইউতে ছাত্রছাত্রীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে পথে নামছে তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার প্রতিবাদ মিছিল করার ডাক দিয়েছিল যুব তৃণমূল কংগ্রেসও। যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকেই এই মিছিল। কলকাতা এবং জেলাতেও প্রতিবাদ মিছিল করার নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
No comments:
Post a Comment