ক্ষুধার্ত পুরুষের চাহিদার শীর্ষে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 27 January 2020

ক্ষুধার্ত পুরুষের চাহিদার শীর্ষে




পুরুষরা যখন ক্ষুধার্ত থাকেন, তখন সুডৌল গড়নের নারীরা তাদের কাছে যৌন আবেদনময়ী হয়ে ওঠেন। আবার খিদে পেটে খিটখিটে মেজাজ নিয়ে নারীরা স্বাস্থ্যবান পেশীবহুল পুরুষদের প্রতি ব্যাপক আকর্ষণ বোধ করেন। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্ট মিনিস্টারের এক দল গবেষকের গবেষণায় এই তথ্য প্রমাণিত হয়েছে। নারী-পুরুষের এই মানসিক অবস্থা রীতিমতো জৈবিক বিবর্তনের সঙ্গে জড়িত বলে জানান গবেষক দলের সদস্য ড. ভিরেন স্বামী।


এ গবেষণা কাজে একদল নারীকে আনা হয়, যাদের টানা ছয় ঘণ্টা কোন কিছু খেতে দেওয়া হয়নি। ক্ষুধার চরম পর্যায়ে তাদের সামনে ১২৪ জন বিভিন্ন দৈহিক গড়নের পুরুষের বিভিন্ন ধরনের ছবি দেখানো হয়। নারীদের সবাই এ সময় পেশীবহুল পুরুষদের পছন্দ করেন।

একইভাবে একদল ক্ষুধার্ত পুরুষদের দেখানো হয়েছিল নারীদের ছবি। যে সকল নারীদের উন্নত বক্ষ এবং সুডৌল দৈহিক গঠন রয়েছে, তারা পুরুষদের চোখে আবেদনময়ী হয়ে ওঠেন।

গবেষকরা বলেন, এই মানসিকতা আদিমকাল থেকেই মানুষ বহন করছে। সুঠামদেহী পুরুষ প্রাচুর্যতায় পরিপূর্ণ এবং ক্ষুধা-জ্বরায় নিরাপত্তার প্রতীক। একইভাবে, উন্নতবক্ষা নারীরাও মেদের আধার, যা এক ধরনের প্রাচুর্যতা প্রদর্শন করে। তাই খিদে পেটে পুরুষরা এসব নারীদের প্রতি আসক্তি বোধ করেন।

ড. স্বামী দ্বিতীয় পরীক্ষার উল্লেখ করে বলেন, পুরুষের কাছে অর্থ-সম্পদ যত থাকে সে তেমন নারীদের প্রতি আসক্তি বোধ করেন যাদের দেহের বক্রতায় গভীরতা রয়েছে।

কেল্টেনহ্যাম বিজ্ঞান মেলায় এডিনবাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর গ্যারেথ লেং এ বিষয়ে বলেন, মানুষের ক্ষুধামন্দের সঙ্গে পছন্দের বিষয়টি নিয়ন্ত্রিত হয় অক্সিটোসিন নামের এক হরমোন দ্বারা। যৌনতার সময়, শিশুর জন্মকালে এবং শিশুকে স্তন্য পানের সময় এই হরমোন উৎপন্ন হয়। অক্সিটোসিন এমন এক হরমোন যা 'ভালোবাসার হরমোন' নামে পরিচিত, যৌনতায় আগ্রহ বাড়ায়। কিন্তু এটি ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়। ক্ষুধা এবং যৌনতা মানুষের এমন মূল জৈবিক দুইটি বৈশিষ্ট্য যে, তা একসঙ্গে ধারণ করা যায় না।

উন্নতবক্ষ আর স্বাস্থ্যবতী নারীরা অর্থনৈতিক মন্দার সময় আসক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন, এ তথ্য ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এমন স্বাস্থ্যবতী নারীরা কঠিন সময় শক্তি এবং নিয়ন্ত্রণের প্রতীক।

একই ধরনের পছন্দ তৈরি হয় যখন মানুষের মনে ভয় কাজ করে, জানান ড. স্বামী।

এই তথ্যটি যদি সঠিক হয়, তবে এমন কপোত-কপোতির জন্য হরর সিনেমা দেখা বা রোলার কোস্টারে চড়ে ডেটিং কেন উপভোগ্য হয়ে ওঠে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। বরফের দেশে ছুটির দিন নারীরা কেন স্কেটিং ইন্সট্রাকটরের প্রেমে পড়ে যান তার জবাবও মেলে।

তবে গবেষক এও বলেন, ভয় ও যৌন অনুভূতির এই ধারণা আসলে ভুল বোঝার ফলাফল। হৃদযন্ত্রের একটি স্পন্দন মিস করা, ত্বক ঘেমে ওঠা অ্যাড্রেনালিন হরমোনের কারবার। আর তাকেই আমরা যৌন অনুভূতি বলে ভুল করি।







সূত্র: সুস্বাস্থ্য

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad