পুরুষরা যৌনতা বিষয়টি নিয়ে যত খোলামেলা আলোচনা করতে স্বচ্ছন্দ, নারীরা ততটাই বিমুখ। স্বভাবত এই কারণের বশেই যৌনতার ক্ষেত্রে কিছু কিছু ভুল করে ফেলেন নারীরা। না চাইলেও এই ভুল তাদের হয়েই থাকে। অন্তত একবার এই ভুল করেই ফেলেন মহিলারা।
যৌনতায় উদ্যোগ না নেওয়া : মহিলারা অনেক সময় ধরেই নেন যে, যৌনক্রিয়ার উদ্যোগ নেবেন পুরুষরাই। খানিকটা লজ্জা ও সংস্কার বশতই তারা এরকম করে থাকেন। কিন্তু পুরুষদেরও তো উল্টো প্রত্যাশা থাকে। তারাও তো চান, কোনও একদিন যৌনতার উদ্যোগ নিক সঙ্গীনিও। ঠিক এই জায়গাতেই ভুল করে ফেলেন মহিলারা। যৌনতার ইচ্ছে হয়ত তাদের ষোলআনাই থাকে, কিন্তু মুখ ফুটে প্রকাশ না করায় ভুল বার্তা যায় পুরুষের কাছে।
নগ্নতায় লজ্জা : সঙ্গমকালে কীরকম দেখতে লাগবে এই ভেবে অনেক নারীই সংকোচে থাকেন। শারীরিক গঠন বা চেহারা নিয়ে হীনমন্যতায় ভোগেন। তার প্রভাব পড়ে যৌনতাতেও। এই ভয় থেকে বা লজ্জার কারণেই নগ্নতায় আপত্তি তোলেন নারীরা। কিন্তু এটা একটা ভুল ধারণা। সঙ্গম মুহূর্তে সঙ্গী বা সঙ্গীনি কীরকম দেখতে তা আদৌ ম্যাটারই করে না। সুতরাং এ ভাবনা মন থেকে তাড়ানোই ভাল।
অতীতের সম্পর্ক মনে রাখা : যৌনতার সময় মনে অতীত টেনে আনা এক বড় ভুল। হতে পারে অন্য কারও সঙ্গে সঙ্গমের অভিজ্ঞতা আপনার আছে কিংবা আপনার সঙ্গীর এরকম অভিজ্ঞতার কথা আপনি জানেন। কিন্তু নিজেদের যৌনতার মধ্যে যদি অতীত চলে আসে তবেই গন্ডগোল। কোনওরকম তুলনা না টানাই শ্রেয়।
নিজের সন্তুষ্টি নিজে চেয়ে না নেওয়া : নারীর যৌন সন্তুষ্টি অনেকটাই নির্ভর করে পুরুষের উপর। কিন্তু তা একান্তই পুরুষের দায় ভাবলে ভুল হবে। কেননা যৌনতার ক্ষেত্রে পুরুষটিও সন্তুষ্টি খোঁজেন, তারও আলাদা পছন্দ, অপছন্দ আছে। তাই নিজের চাহিদা নিজেকেই প্রকাশ করতে হবে। সন্তুষ্টি না পেলে পুরুষসঙ্গীর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়া সহজ। কিন্তু তাতে তো কাজের কাজ কিছু হবে না। তাই দোষারোপ না করে, এমনকী আক্ষেপও না করে, নিজে যেটা চান সেটা খুলে বলুন।
সঙ্গীর প্রশংসা না করা : যৌনতার শেষে সঙ্গীর প্রশংসা না করা নারীদের একটা বড় ভুল। এতে পুরুষ সঙ্গীটি ভুল ভাবতে পারেন। তার মনে হতেই পারে, তিনি নারীকে সঠিক সন্তুষ্টি দিতে পারলেন না। যদি তাই হয়, তবে পুরুষ সঙ্গীকে তা বলা প্রয়োজন। কী কারণে সন্তুষ্টি এল না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আর যদি তা না হয়, তবে খোলমনে সঙ্গীর প্রশংসা করুন। যাতে তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তাতে লাভ? পরবর্তী যৌনতার ক্ষেত্রেই টের মিলবে।
পরীক্ষা না করা : বেশিরভাগ মহিলাই যৌনতার ক্ষেত্রে একই রকম কায়দা-কানুন পছন্দ করেন। কিন্তু তাতে যৌনতায় একঘেঁয়েমি আসতে বাধ্য। পুরুষটির ক্ষেত্রেও একই জিনিস পছন্দের নাও হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে অভ্যাস একটু বদলানোই ভাল। যৌনতার জায়গা বা পজিশনে একটু আধুটু বৈচিত্র্য আনলে যৌনজীবনই আরও খানিকটা স্পাইসি হবে।
হাতের নখ না কাটা : নখের মায়া ছাড়তে পারেন না অনেক মহিলাই। হাতে সাধ করে বড় বড় নখ রাখেন। কিন্তু চরম মুহূর্তে সেগুলোই বড় বেরসিক হয়ে উঠতে পারে। মৃদু নখরাঘাত যৌনতার মজা যতখানি বাড়িয়ে দিতে পারে, বড় আঁচড়ে ততখানিই মোহভঙ্গ করতে পারে। অসাবধানে বড় নখের আঁচড়ে পুরুষ সঙ্গীর মুডটিই মাঠে মারা যেতে পারে। এই ভুলটা কিন্তু ইচ্ছে করলেই এড়ানো যায়।
সূত্র: স্বাধীন বাংলা 24

No comments:
Post a Comment