কেন মানুষ একাধিক শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 27 January 2020

কেন মানুষ একাধিক শারিরীক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে


একরাতের জন্য সহবাস কিংবা পরকীয়া সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে৷ কিছু মানুষ একে মনোগামী বা একগামিতার ব্যর্থতা মনে করেন৷ আসলেই কি তাই? মানুষের বহুগামিতা কিংবা যৌন জীবনে অসততা নিয়ে বিজ্ঞান কী বলে?

সেটা ছিল পড়ন্ত বিকেল, মদের নেশাটাও বাড়ছিল, মোটের উপর সঙ্গিনীও ছিল আকর্ষণীয়৷ ফলে হাসিঠাট্টা একপর্যায়ে চুমুতে রূপ নেয়, যার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে বিছানায়৷ ম্যাক্স মাঝেমাঝেই এভাবে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান৷ আর এটা কোনো সমস্যা হতো না, যদি না তিনি বিবাহিত হতেন৷ ম্যাক্স মনে করেন, তাঁর এই যৌনাকাঙ্খা স্বাভাবিক ব্যাপার৷ তবে স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও এমনটা করা ঠিক নয়৷

যুগল এবং সেক্স থেরাপিস্ট গের্টরুড ভোল্ফ অবশ্য এ ব্যাপারে তাঁর অবস্থান এককথায় জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই একগামী নয়৷''

ভোল্ফের এক তৃতীয়াংশ ক্লায়েন্টই তাঁর কাছে আসেন প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে৷ একটি দম্পতি বা যুগলের যে কোনো একজন অন্য জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, এমন অভিযোগই বেশি৷ আর অনেক যুগলের কাছেই, যৌন জীবনে সৎ থাকা মানে একগামিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার৷ এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি প্রায়ই এমন মানুষের মুখোমুখি হই, যাঁরা বলেন যে তাঁরা কোনোদিনই প্রতারণা করবেন না৷ এবং তাঁদের সঙ্গী বা সঙ্গিনী যদি প্রতারণা করেন, তাহলে তাঁকে ক্ষমা করবেন না৷''
তিনি বলেন, ‘‘অনেক সময় দেখা যায়, তাঁদের অনেকে আবার আমার সামনে এসে বসেন, কেননা, তাঁরা আসলে যৌন জীবনে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন৷''

অনেক মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, একগামিতার বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত৷ একটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিনা সেটা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা৷ আর কারো কারো মতে, একগামিতা আসলে সেকেলে ব্যাপার, যা শীঘ্রই সমাজ থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে৷

ভোল্ফ মনে করেন, একগামিতা হচ্ছে পুরুষের আবিষ্কৃত এক ধারণা, যাকে সাংস্কৃতিক অর্জন বলা যেতে পারে৷ আর এটা এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারও৷

যৌনতার দুই ধরন

ভোল্ফ তাঁর বই ‘কন্সট্রাকশন অফ অ্যাডাল্ট'-এ মানুষের যৌনাকাঙ্খার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন৷ সেখানে তিনি দু'ধরনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন৷ একটি ধরন হচ্ছে, যেটি পুরোপুরি শারীরিক চাহিদা থেকে সৃষ্ট৷ এখানে ঘনিষ্ঠতার কোনো ব্যাপার নেই, বরং পুরোটাই শারীরিক চাহিদা৷ এই সম্পর্ক সাময়িক৷

ম্যাক্স এটা জানেন৷ জানেন রেবেকাও৷ বর্তমানে ৩০ বছর বয়সি এই নারী বয়স ২০ পেরুনোর পর নানাভাবে যৌনতার স্বাদ নিয়েছেন৷ কখনো সুইন্গার ক্লাব মানে তাৎক্ষণিক সঙ্গী বদলের ক্লাবে গিয়েছেন, কখনো এমন সব স্থানে সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন, যা স্বাভাবিকভাবে ভাবা যায় না৷ তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল যতটা সম্ভব আনন্দ, উত্তেজনা উপভোগ করা৷

আর দ্বিতীয় ধরনের সম্পর্ক হচ্ছে, যেখানে যৌনতার মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া ঘনিষ্ঠতা, যা মানসিকও হতে পারে৷ ভোল্ফের ভাষায় যাকে বলে, ‘‘সংস্কৃতির আদলে যৌনতা৷'' তাঁর মতে, এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একগামিতা বিশেষ ভূমিকা পালন করে, কেননা, দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ককে মজবুত করে তোলেন৷

সূত্র ডি ডব্লিউ 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad