কখন কি এই ভেবে অবাক হয়েছেন যে আপনার চেনা কেউ, যেমন কোন বন্ধু বা আত্মীয়, খুব দুঃখী, ক্লান্ত বা অন্যমনস্ক লাগছেন বেশ কয়েক দিন ধরে? আপনার হয়ত লক্ষ্য থাকবে যে মানুষটা খুবই শান্ত হয়ে গেছেন, রোজকার জীবনের কাজের কোনও ইচ্ছাই নেই; সঠিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করছেন না বা মাঝে মাঝেই কাজের সময় মনঃসংযোগের অভাব ঘটছে। এই চিহ্নগুলো থেকেই বোঝা যায় যে সেই মানুষটি হয়ত বা ডিপ্রেশনে বা অবসাদে ভুগছেন।
অবসাদ হল একটি সাধারণ মানসিক ভারসাম্যহীনতা, যা মানুষের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি, ব্যবহার, সম্পর্ক, কর্মক্ষমতাকে আক্রান্ত করে; কখনও বা মানুষকে মৃত্যুর দিকেও ঠেলে দেয়।
দুঃখের ঘটনায় সাময়িকভাবে দুঃখী বা অসুখী হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনও ভাবে যদি এই অনুভূতি অনেকদিন (দুই সপ্তাহের বেশি) ধরে চলতে থাকে অথবা এই ঘটনা খুব ঘন ঘন ঘটে এবং তা যদি স্বাভাবিক জীবন ও স্বাস্থ্যকে ব্যাহত করে, তখন তাঁকে অবসাদের চিহ্ন রূপে ধরে তাঁর চিকিৎসা করা প্রয়োজন হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
অবসাদ কোনও দুর্বলতা বা মানসিক অস্থিরতার চিহ্ন নয়; এটা ডায়াবিটিস বা হার্টের রোগের মতই এক অসুস্থতা, যা যে কোন মানুষকে জীবনের যে কোনও সময় আক্রমণ করতে পারে।
অবসাদ চিকিৎসা দ্বারা সম্পূর্ণ সেরে যায়।
আপনি সব সময়ই অবসাদ গ্রস্ত মানুষদের সাহায্য করতে পারেন। যদিও, এটা কিছুটা অসুবিধাজনক কারণ একজন মানুষ সহজে বিষয়টা মেনে নিয়ে সাহায্য চান না। তাও যদি আপনি উপরে বর্ণিত কোনও না কোনও উপসর্গ কোন চেনা মানুষের মধ্যে লক্ষ্য করেন, তাঁকে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করুন।
একজন সহানুভূতিশীল হিসাবে আপনি পারেনঃ
আরও বেশী তাঁকে বোঝা, সাহায্য করা ও তার খেয়াল রাখা।
এই সব মানুষের সাথে সহানুভূতির সাথে কথা বলা ও তাঁদের অনুভূতির কথা শোনা।
মানুষটিকে নানাবিধ কাজে ব্যস্ত থাকতে সাহায্য করা কারণ কাজে ব্যস্ত থাকা অবসাদ থেকে বেরোনোর উপায়।
আত্মহত্যা বিষয়ে রোগীর বক্তব্যকে ঠিক মত বোঝা ও সাথে সাথে মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে জানানো।

No comments:
Post a Comment