‘লো প্রেশার’ বা নিম্ন রক্তচাপ?কখনোই অবহেলা করবেন না - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, 18 January 2020

‘লো প্রেশার’ বা নিম্ন রক্তচাপ?কখনোই অবহেলা করবেন না

‘লো প্রেশার’ বা নিম্ন রক্তচাপ হলে তা উচ্চ রক্তচাপের মতো আতঙ্কের কারণ হয় না ঠিকই, তবে তা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়। তাই লো প্রেশারের কারণ ও নিয়ন্ত্রণের উপায় জানা থাকলে কাজে লাগবে।

অকারণেই ক্লান্ত?
আপনার কি অকারণেই ক্লান্ত লাগে কিংবা হঠাৎ করে চোখের সমানে সবকিছু কেমন ঘোলাটে মনে হয়? তাহলে আপনার প্রেশার বা রক্তচাপটা একটু ‘চেক’ করিয়ে নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে লো প্রেশারের সম্ভাব্য কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

বয়ঃসন্ধিকাল
বয়ঃসন্ধিকালে ছেলে-মেয়েরা যখন লম্বা হয় তখন শরীরে রক্তের চাপ কমতে পারে, যা কিনা শরীরে হরমোন পরিবর্তনের সাথে সম্পৃক্ত। তবে এ নিয়ে ভাবনার কিছু নেই। কারণ এই সমস্যা নিজে থেকেই চলে যায়৷ জানান ডা. বডো শিফমান।

মাসিক ঋতুস্রাব
অতিরিক্ত ঋতুস্রাবের কারণে অনেক মেয়েরই প্রেশার লো হতে পারে। এ সময়ে আয়রন ট্যাবলেট বেশ উপকারী। অবশ্য সেই সিদ্ধান্ত নেবে আপনার ডাক্তার। তবে যেসব খাবারে আয়রন রয়েছে, অর্থাৎ কলিজা, মাংস, ডিম, বিভিন্ন শাক, কলা, আপেল, টমেটো ইত্যাদি খেলেও কিন্তু উপকার পেতে পারেন।

ওষুধের প্রভাব
উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবন থেকেও অনেক সময় প্রেশার কমে যেতে পারে বা মাথা ঘুরতে পারে। এটা সাধারণত হয়ে থাকে ওষুধের পরিমাণ কম-বেশি বা ওষুধ সহ্য না হওয়ার কারণে। তবে এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।

অন্য অসুখের প্রভাব
ডায়াবেটিস বা পার্কিনসন্স রোগ থাকলেও কখনো কখনো রক্তের চাপ কমে যেতে পারে৷ নার্ভ ধমনীকে ‘কন্ট্রোল’ করে থাকে বলে, রক্তে চিনির মাত্রা বেড়ে গেলে তা নার্ভের ক্ষতি করে। এরকম পরিস্থিতিতে রক্তের চাপ কমে নীচের দিকে, অর্থাৎ পায়ে নেমে যেতে পারে।

মানসিক চাপ
হঠাৎ করে অন্য কোনো সমস্যা বা মানসিক অবস্থার কারণে মনের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে আর তা থেকেও রক্তের চাপ একেবারে নেমে গিয়ে ‘প্যানিক অ্যাটাক’ হতে পারে। এ কথা জানান ডা. ভল্ফগাং ফন শাইড্ট৷ আসলে অনেক কারণেই প্রেশার কমে যেতে পারে৷ তাই প্রতি দুই থেকে তিন সপ্তাহ অন্তর প্রেশার মাপা এবং তা ‘চার্ট’ করে লিখে রাখা জরুরি। একমাত্র তবেই বিশেষজ্ঞের পক্ষে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা সম্ভব।

ব্যায়াম
রক্তের চাপ কিছুটা কমে গেলে সাধারণত তেমন ভয়ের কারণ থাকে না। তবে এক্ষেত্রেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন৷ তাছাড়া নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়াম করলে সহজেই রক্তের চাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আর নিয়মিত ব্যায়াম করা দু’রকম প্রেশারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তা ‘হাই’ বা ‘লো’ যাই হোক না কেন৷

হৃদপিণ্ড
সারাদিন শুয়ে-বসে থাকলে শরীরে রক্ত চলাচল যথাযথভাবে সম্পন্ন হয় না। এর ফলে হৃদপিণ্ডে রক্ত চালাচলে অসুবিধা হতে পারে। এমনকি ব্যাপারটা অন্য দিকেও মোড় নিতে পারে। তাই রক্তের নিম্নচাপকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad