মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, ক্যাব, এনআরসি বাংলায় মানা হবে না। প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন আমরা দেখিনি।
এবার ক্যাব, এনআরসি রুখতে দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের ডাক দিলেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার মেয়ো রোডে সংহতি দিবস পালন করতে গিয়ে মমতা বলেন, আজকের দিনে এটাই আমাদের সংহতি দিবসের শপথ হোক। ক্যাব, এনআরসি পয়সার এপিঠ-ওপিঠ। দাঙ্গা নিয়ে আমরা রাজনীতি করি না। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে আমরা আন্দোলন করি না।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মমতা বলেন, পাকিস্তান–হিন্দুস্তান করিনি আমরা। পাকিস্তান সম্পর্কে আমরা বলতে যাব কেন? হিন্দুস্তান নিয়ে আমরা বলব। সংবিধান, দেশ ও মানুষ বিরোধী আমরা কোন কাজ করি না।
মমতা আরও বলেন, প্রতিবাদ করতে অনেকেই ভয় পাচ্ছেন। আমি ভয় পাই না। সবাই চুপ করে আছেন। আমি মেনে নেব না। এজন্য যদি আমাকে মৃত্যু সাব্যস্ত করে তাও লড়ে যাব। ক্যাব হচ্ছে মুন্ডু আর এনআরসি হচ্ছে ঘ্যাচাং। ধর্মীয় উগ্রবাদীরা সবকিছু পাবে, অন্য ধর্মের মানুষদের বিপদে ফেলবে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।
মমতার অভিযোগ, লোকসভা ও রাজ্যসভায় সংখ্যা ও গায়ের জোরে ক্যাবের বিল পাস করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বুকের পাটা যদি থাকে তাহলে সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হোক, দিলে আমি শতভাগ রাস্তায় নেমে সমর্থন করব। আসামে ১৪ লক্ষ বাঙালিকে নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী কোথাকার? ত্রিপুরাকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে কেন? উত্তর–পূর্ব রাজ্যগুলিকে কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে?
তিনি আরও বলেন, গায়ের জোরে রোজ হুঙ্কার দেবে, আমাদের ওসব সহ্য করতে হবে? ক্যাব, এনআরসি সমর্থন না করার জন্য সব দলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তিনি এর বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ জানান।
মমতা বলেন, হিন্দুস্তান–পাকিস্তান বলে এরা নতুন শব্দ বের করেছে। ভেদাভেদের রাজনীতি করছে। রাজবংশীদের কোন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তামিলনাড়ুতে তামিলদের কি হবে? ক্যাব, এনআরসি ললিপপ।
মমতার অভিযোগ, দেশে ৪০ শতাংশ বেকার বেড়েছে। রাজ্যে ৪০ শতাংশ বেকারের সংখ্যা কমিয়েছি। মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছি। ৫০ হাজার কোটি টাকা দেনা শোধ করতে হবে। বুলবুলের জন্য ২৩ হাজার কোটি টাকা পাব। স্বাস্থ্য বীমার জন্য আমরা ১২৫০ কোটি টাকা খরচ করেছি। কন্যাশ্রীর জন্য ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কেন্দ্রের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে। অর্থনীতি দেউলিয়া হয়ে গেছে। আরও হবে। এরপর দেশ দেউলিয়া হয়ে যাবে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না। অর্থনীতির ইস্যুগুলো গুলিয়ে দেওয়ার জন্য ক্যাব, এনআরসি করা হচ্ছে। ওরা আগে ক্যাব করবে তারপর এনআরসি করবে।
মমতা বলেন, অনেক শিল্পপতি এনআরআই হয়ে যাচ্ছেন। এই ভারতে প্রত্যেকের থাকার অধিকার রয়েছে। এই অধিকার কেড়ে নিতে দেব না। বাংলায় আমরা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিই। বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা দেন শেখ হাসিনা। হিন্দু–মুসলিম বাংলায় করতে দেব না। সব ধর্মের লোক এখানে বাস করবেন। এনআরসি–র জন্য বাংলার বাইরে কাউকে যেতে হবে না। আমার ওপর আপনারা ভরসা রাখুন। আস্থা রাখুন। আমরা সকলে মিলে একসঙ্গে থাকব।
সূত্র: কালের কণ্ঠ

No comments:
Post a Comment