সিএএ-এর পক্ষে মতপ্রকাশ করায় বাধার সম্মুখীন হয়ে মঞ্চ ছাড়লেন কেরালার রাজ্যপাল - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 29 December 2019

সিএএ-এর পক্ষে মতপ্রকাশ করায় বাধার সম্মুখীন হয়ে মঞ্চ ছাড়লেন কেরালার রাজ্যপাল




কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০তম ভারতীয় ইতিহাস কংগ্রেসে উদ্বোধনী ভাষণ দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন কেরালার গভর্নর আরিফ মোহাম্মদ খান। শনিবার ওই কংগ্রেসে রাজ্যসভার আইনপ্রণেতা কে কে রাজেশ ও ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সমালোচনা করার পর বক্তব্য দিতে গিয়ে আইনটির পক্ষ নেন গভর্নর। এরপরই প্রতিনিধিদের প্রতিবাদের মুখে ঘটনাস্থল ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।  সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এই খবর জানিয়েছে।

গত ১২ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের পর এর বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে চলছে বিক্ষোভ। বিতর্কিত এই আইনে প্রতিবেশি তিন দেশ থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা আইনটিকে বৈষম্যমূলক ও ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছে।

শনিবার কান্নুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস কংগ্রেসেও উঠে আসে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সংক্রান্ত বিতর্ক। রাজ্যসভার আইনপ্রণেতা কে কে রাজেশ ও ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব বলেন, (ভারতের) সংবিধান এখন তাদের হুমকির মুখে পড়েছে, যাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনও অবদান নেই।

ওই মন্তব্যের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে নিজের বক্তব্যে কেরালার গভর্নর আরিফ মোহাম্মদ খান বলেন, ‘এই ধরণের চলমান ইস্যু এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তোলা উচিৎ না। কংগ্রেসের অন্য অধিবেশনে আপনারা আপনাদের মতামত রাখতে পারেন’। তার আগের বক্তারা যেসব মন্তব্য করেছেন সেগুলোকে রাজনৈতিক বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, এগুলোর সঙ্গে ইতিহাসের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।

কেরালার গভর্নর বলেন, ‘শক্তিশালী গণতন্ত্রে ফলপ্রসু আলোচনা দরকার, সহিংসতা নয়। যারা বিরোধীদের ব্যানার তুলে ধরেছেন, তাদের সরকারের সঙ্গেও আলোচনার প্রস্তুতি থাকা উচিৎ। তাদের (বিক্ষোভকারীরা) বিভ্রান্ত করা হয়েছে। বিতর্ক ও আলোচনার পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে সহিংসতায় উস্কানি দেওয়া হয়’।

দেশবিভাগ নিয়ে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়া শুরু করলে ইতিহাস কংগ্রেসের কয়েক জন প্রতিনিধি প্লাকার্ড হাতে নিয়ে মঞ্চের দিকে এগিয়ে এসে গভর্নরের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ও মহাত্মা গান্ধীকে উদ্ধৃত করে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন গভর্নর। তবে মঞ্চে উপস্থিত ইতিহাসবিদ ইরফান হাবিব তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি বরং (মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নথুরাম) গডসেকে উদ্ধৃত করুন’। শোরগোল তুমুল হয়ে উঠলে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। ওই সময় বিক্ষোভকারীদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। তবে গভর্নর ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষুব্ধ প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুলিশি আচরণের নিন্দা জানান ভারতীয় ইতিহাস কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মহালক্ষী রামাকৃষ্ণান। পরে কেরালার গভর্নরের কার্যালয়ের এক ট্যুইট বার্তায় বলা হয়, ‘সংবিধান সুরক্ষা ও রক্ষায় নিবেদিত ব্যক্তি হিসেবে আগের বক্তাদের উত্থাপিত পয়েন্টের জবাব দিয়েছেন গভর্নর। কিন্তু ভিন্নমতে অসহনশীল হয়ে মঞ্চ ও দর্শকসারি থেকে তার বক্তব্যে বাধা দেওয়া অগণতান্ত্রিক’।








সূত্র: বিডি প্রতিদিন

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad