সিএএ-এর আঁচে পুড়ছে দেশের পর্যটন শিল্প, ২ লাখ পর্যটক হারালো তাজমহল - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 29 December 2019

সিএএ-এর আঁচে পুড়ছে দেশের পর্যটন শিল্প, ২ লাখ পর্যটক হারালো তাজমহল




বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভের ডামাডোলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের পর্যটন খাত। গত দুই সপ্তাহে শুধু তাজমহলই দুই লাখ পর্যটক হারিয়েছে। ইতোমধ্যেই অন্তত নয়টি দেশ ভারতে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা, তাইওয়ান ও ইসরায়েল। রবিবার কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে তীব্র বিক্ষোভের ফলে এ মুহূর্তে দেশে ভ্রমণে আসতে চাইছেন না বহু পর্যটক। এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। ধরপাকড়ের শিকার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। উত্তর প্রদেশে পুলিশ মুসলিম বিক্ষোভকারীদের পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে; এমন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আরেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সব কটাকে পুড়িয়ে দিতে এক সেকেন্ড লাগবে।’ এমনকি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মুসলিমদের দোকানপাট-সম্পত্তি জব্দের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। এই উত্তর প্রদেশেই অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ তাজমহল। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিপুল সংখ্যক পর্যটক।

সাত দেশের ভ্রমণ সতর্কতায় তাদের নাগরিকদের ভারতে আসা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারপরও আসতে হলে বিক্ষোভকবলিত অঞ্চলগুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

দেশীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে বিশ্বের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ তাজমহল প্রায় দুই হাজার পর্যটক হারিয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের পর্যটকরা রয়েছে। অনেকে সফর বাতিল করেছে। কেউবা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভ্রমণ স্থগিত করেছে।

তাজমহল সংলগ্ন একটি বিশেষ পর্যটন থানায় দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ পরিদর্শক দিনেশ কুমার। তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরের চেয়ে এবারের ডিসেম্বরে তাজমহলের পর্যটক কমেছে ৬০ শতাংশ।

দিনেশ কুমার বলেন, নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য দেশীয় ও বিদেশি পর্যটকরা আমাদের কন্ট্রোল রুমগুলোতে ফোন দিচ্ছে। আমরা তাদের সুরক্ষা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিই। তারপরও অনেকে এখনও দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২০ দিনের জন্য ভারত সফরে আসা একদল ইউরোপীয় পর্যটক জানিয়েছেন, তারা সফর সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা করছেন। ওই পর্যটক দলের একজন সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার ডেভ মিলিকিন। দিল্লিতে রয়টার্স-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, "আমরা সবই অবসরপ্রাপ্ত লোকজন। আমাদের জন্য ভ্রমণ ধীর ও আরামদায়ক হওয়া দরকার। কিন্তু সংবাদপত্রের শিরোনামগুলো উদ্বেগের অনুভূতি তৈরি করছে। আমাদের যে ভ্রমণ পরিকল্পনা ছিল তার আগেই ফিরে যাবো।"

উল্লেখ্য, প্রতি বছর উত্তর প্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত তাজমহল দেখতে আসেন ৬৫ লাখেরও বেশি পর্যটক। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের তৈরি এ ভবনটিতে শুধু প্রবেশ ফি বাবদ বছরে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা আয় করে দেশ। তাছাড়া তাজমহলকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় একটি অর্থনৈতিক বলয় গড়ে উঠেছে। পর্যটকদের থাকার জন্য তৈরি হয়েছে বহু বিলাসবহুল হোটেল ও গেস্ট হাউস। তাছাড়া অনেকে ওই এলাকা থেকে নানা সামগ্রী কেনাকাটা করেন। ফলে পর্যটন খাত বিপর্যস্ত হলে এর প্রত্যক্ষ ক্ষতির বাইরে পরোক্ষভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ।






সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad