নতুন নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একথা বোঝাতে ধর্মীয় গুরু সদগুরু যোগী বাসুদেবের একটি ভিডিও ট্যুইট করেন তিনি। তবে ভিডিওতে সদগুরুর ভাষ্য, তিনি নাগরিকত্ব আইন পুরোটা পড়েননি। তারপরও অবশ্য এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করেন এই আধ্যাত্মিক গুরু। বাসুদেবের ভিডিও ছাড়াও, নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট থেকেও এই আইনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন মোদি।
গত ১২ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের পর এর বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে চলছে বিক্ষোভ। বিতর্কিত ওই আইনে প্রতিবেশী তিন দেশ থেকে আসা অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে আইনটি বৈষম্যমূলক ও দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের পরিপন্থী আখ্যা পেয়েছে।
বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরাও আন্দোলনরতদের ‘উপদেশ’ দিচ্ছিলেন, নয়া নাগরিকত্ব আইন পড়ে দেখুন। যুক্তি ছিল, ছাত্রছাত্রীদের ভুল বোঝানো হয়েছে। তারা আইনে কী রয়েছে, না পড়েই রাস্তায় নেমে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই এই আইন বোঝাতে সদগুরুর আশ্রয় নেন। তিনি বলেছেন, নাগরিকত্ব আইন বুঝতে সদগুরুর ব্যাখ্যা শুনুন। ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ সদগুরু বাসুদেবের একটি ভিডিও ট্যুইট করে বলেন, ‘সদ্গুরু সিএএ জলের মতো ব্যাখ্যা করেছেন, তা শুনে দেখুন।’
সদ্গুরু ২০ মিনিটের বেশি সিএএ-র গুণাগুণ ব্যাখ্যা করলেও প্রথমেই বলছেন, ‘আমি পুরো আইন পড়িনি। সংবাদপত্র পড়েছি, যা লেখালেখি হচ্ছে, সেগুলো পড়েছি।’ তবে তার দাবি, ‘এই আইন সব দেশেই রয়েছে। এই আইনের প্রয়োজন রয়েছে।’
ভিডিওতে আন্দোলনরতদের সমালোচনাও করেছেন এই আধ্যাত্মিক গুরু। শিক্ষার্থীদের খনি শ্রমিকের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘সবাই বলছে, পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তো পাথরের খনির শ্রমিকের মতো আচরণ করছে। সবাইকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ছে।’
শুধু বাসুদেবের ভিডিও ট্যুইট করাই নয়, নিজের একটি ট্যুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ‘#ইন্ডিয়াসাপোর্টসিএএ’ দিয়ে সমর্থনের আর্জি জানিয়ে মোদি লিখেছেন, ‘‘এই আইন সমর্থন করুন, কারণ এটা অত্যাচারিত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, কারও নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়।’’ নমো অ্যাপ থেকে ‘#ইন্ডিয়াসাপোর্টসিএএ’ ট্যুইটারে প্রচার অভিযান শুরু হয়েছে।
সূত্র: দৈনিক সংগ্রাম
No comments:
Post a Comment