এখন থেকে চিকিৎসকদের শেখানো হবে কি করে ওঝাগিড়ি করতে হয়! - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, 30 December 2019

এখন থেকে চিকিৎসকদের শেখানো হবে কি করে ওঝাগিড়ি করতে হয়!





দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে ভূতবিদ্যা শেখানোর একটি সার্টিফিকেট কোর্স। যেখানে চিকিৎসকদের শেখানো হবে যে, যেসব রোগীরা দাবি করে যে তারা ভূত দেখেছেন বা তাদের ভূতে ধরেছে, সেসব রোগীদের কিভাবে ওঝাগিড়ি করতে হবে।

উত্তরাঞ্চলীয় শহর বারাণসীর বানারাস হিন্দু ইউনিভার্সিটিতে (বিএইচইউ) আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ছয় মাসের এই কোর্স। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই কোর্সে শারীরিক ও মানসিক বিষয়ক রোগ বা সাইকোসোম্যাটিক ডিসঅর্ডার সম্পর্কে পড়ানো হবে, যে রোগটিকে প্রায়ই অলৌকিক ঘটনা বা ভৌতিক ঘটনা বলে ভুল করা হয়। এই কোর্সটি পরিচালনা করবে আয়ুর্বেদ অনুষদ। আয়ুর্বেদকে ওষুধ এবং আরোগ্য লাভের প্রাচীন হিন্দু ব্যবস্থা বলে মনে করা হয়।

বিএইচইউ-এর এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতবিদ্যা শেখানোর জন্য আলাদা একটি ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আয়ুর্বেদ অনুষদের ডিন ইয়ামিনি ভূষন ত্রিপাঠি বলেন, ‘ভূত বিদ্যা মূলতঃ সাইকোসোম্যাটিক ডিসঅর্ডার নিয়ে কাজ করবে, যা আসলে অজানা কারণে হয়ে থাকে এবং এটি মন ও দেহের বিশেষ ধরণের অবস্থা।’ তিনি আরও বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশে প্রথম এ ধরণের একটি কোর্স শেখানোর সুযোগ দিয়েছে, যা চিকিৎসকদের ‘ভূত বিষয়ক অসুস্থতায় আয়ুর্বেদ উপায়ে নিরাময়ের’ সেবা দেওয়া শেখাবে। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় সাধারণত হারবাল ওষুধের ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ম্যাসাজ বা মর্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস-সহ নানা ধরণের ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত থাকে।

২০১৬ সালে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব মেন্টাল হেলথ এন্ড নিউরোসায়েন্স (নিমহানস)-এর এক গবেষণার তথ্য মতে, দেশের ১৪% মানুষের মানসিক সমস্যা রয়েছে। আর ২০১৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ২০% জীবনের কোন না কোন পর্যায়ে অবসন্নতায় ভোগে। কিন্তু ১৩০ কোটি জনসংখ্যার দেশে মানসিক রোগের চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ৪ হাজার জনেরও কম এবং মানুষের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে তেমন কোন সচেতনতাও নেই।

এছাড়া, সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায়, পেশাদার চিকিৎসকদের কাছ থেকে সহায়তা নেন খুব কম সংখ্যক ভারতীয়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও দরিদ্র এলাকায় মানসিক সমস্যার সমাধানে মানুষ সাধারণত ওঝা বা যাদুবিদ্যা চর্চা করে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে এমন চিকিৎসকদের কাছে যায়। তবে সরকারের পরিচালনায় বিএইচইউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূতবিদ্যা সম্পর্কিত কোর্স চালু হওয়ার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরণের প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবহারকারীরা।

ট্যুইটারের মতো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে এদের অনেকেই বলেছেন যে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ওষুধ এবং রিহ্যাব বা পুনর্বাসনই যথোপযুক্ত প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি। অনেকে আবার এই কোর্সের নামকরণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বলছেন যে, এটার অন্য ধরণের নাম হতে পারতো। এছাড়া অনেকে এই ঘোষণার উপহাস করেছেন এবং সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।










সূত্র: ইনকিলাব

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad