হার্ট অ্যাটাক বা হৃদযন্ত্রে ক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হয়। শুরু হওয়া ব্যথা ২০-৩০ মিনিট স্থায়ী হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারা যান।
তবে কিছুটা সচেতন হলেই নিজের প্রাণ বাঁচানোর পাশাপাশি অন্যের প্রাণও বাঁচানো যেতে পারে।
হার্ট অ্যাটাক হল, হার্ট ঠিক মতো কাজ না করা। করোনারি আর্টারি নামে হৃৎপিণ্ডের গায়ে থাকে দুটি ছোট ধমনী। এরাই হৃৎপিণ্ডে পুষ্টির যোগান দেয়। কোন কারণে এই করোনারি আর্টারিতে যদি ব্লক সৃষ্টি হয়, তাহলে যে এলাকা ওই আর্টারি বা ধমনীর রক্তের পুষ্টি নিয়ে চলে, সে জায়গার হৃৎপেশি কাজ করে না। তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে।
ভাবুন, একা একা বাড়িতে বসে আছেন। বাড়ীর মানুষেরা অন্য ঘরে বসে টিভি দেখছে। হঠাৎ করে আপনার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হল এবং সেই ব্যথা যেন আস্তে আস্তে করে আপনার নিচের চোয়ালের দিকে হেঁচড়ে আসা শুরু করলো! আপনার কাছাকাছি কেউ নেই। আপনি বুঝতে পারছেন, আপনার হৃদপিণ্ডে ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এখন আপনি কী করবেন?
হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ফলে অধিকাংশ সময় মানুষ মারা যান। কারণ তারা একা থাকেন। অন্য কারও সাহায্য ছাড়া তাদের বুকের ওপর পাম্প করে হৃদযন্ত্রে রক্ত সঞ্চালন সম্ভব হয় না এবং ব্যথা শুরু হওয়ার পরে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সাধারণত তাদের হাতে ১০ সেকেণ্ড সময় থাকে।
এ অবস্থায় বুকে ব্যথার শিকার ব্যক্তি নিজেকে সাহায্য করতে পারেন বারংবার জোরে জোরে উচ্চস্বরে কাশি দিয়ে। লম্বা করে শ্বাস নিন। আর কাশি দিন।
* শ্বাস–কাশি, শ্বাস–কাশি এ প্রক্রিয়া প্রতি দুই সেকেণ্ডে একবার করে করতে থাকুন, যতক্ষণ না কেউ আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসে অথবা যতক্ষণ আপনার হৃদযন্ত্র একা একাই স্বাভাবিকভাবে স্পন্দিত হতে থাকে।
* লম্বা করে শ্বাস নেওয়ার ফলে আপনি পর্যাপ্ত অক্সিজেন পাবেন। আর কাশির ফলে আপনার হৃদযন্ত্র সংকোচন প্রসারণ হবে, ফলে আপনার হৃদপিণ্ডের ভেতর দিয়ে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
* এভাবে কয়েকবার কাশির ফলে উৎপন্ন সংকোচন-প্রসারণে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক, স্বয়ংক্রিয় স্পন্দনে ফিরে আসতে সহায়তা করে।
তবে দেরি না করে অপর কোন ব্যক্তির সাহায্যে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছতে চেষ্টা করুন।
সূত্র: একুশে বার্তা

No comments:
Post a Comment