তাঁর এলাকাতেই তৈরি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। তারপর ভিতপুজোয় আমন্ত্রণ না পাওয়ায়, তৃণমূলের ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে সরব পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে প্রকাশ্যে শাসকদলের কোন্দল।
রাজ্যে একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর। অথচ সেই বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি নিয়েও সামনে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল। সোশাল মিডিয়ায় ব্লক সভাপতিকে আক্রমণ পঞ্চায়েত উপপ্রধানের। পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের বামুনিয়াতে শুরু হয়েছে মহত্মা গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কাজ। গত বুধবার সেখানে ভিতপুজো হয়। উপস্থিত ছিলেন মহিষাদল ব্লকের তৃণমূল সভাপতি তিলক চক্রবর্তী। যিনি আবার মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। নির্মীয়মাণ বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গাটি ইটামগরা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে পড়ে। তারপরও, ভিতপুজোয় আমন্ত্রণ না পেয়ে বেজায় চটেছেন পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান রামকৃষ্ণ দাস। এরজন্য তিলক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তিনি। ইটামগরা ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রামকৃষ্ণ দাসের দাবি, আমার পঞ্চচায়েতের এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, অথচ ডাক পেলাম না। তিলক চক্রবর্তী এলাকার কন্ট্রাক্টরদের নিয়ে ভিতপুজো করেছেন, কিন্তু মহিষাদলে তো অনেক অধ্যাপক-শিক্ষক আছেন, সেখানে ওনাদেরও আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল। উনি তো কোনও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, হঠাৎ দায়িত্ব নিয়ে কেন ঠিকাদার ঠিক করলেন কেন? উপপ্রধানের বিরুদ্ধে পাল্টা জেলা নেতৃত্বের কাছে নালিশ জানিয়েছেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, পূর্ত দফতরের তরফে আমাকে ডাকা হয়েছিল, তাই গিয়েছিলাম, কে কি ফেসবুকে পোস্ট করেছে তা আমি জানি না। তবে শুনেছি, আমি বিষয়টি জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছি। স্থানীয় সূত্রে খবর, মহিষাদলের তৃণমূল বিধায়ক সুদর্শন ঘোষ দস্তিদারের অনুগামী হিসেবে পরিচিত রামকৃষ্ণ দাস। দলের বিধায়কের সঙ্গে আবার তিলক চক্রবর্তীর বিবাদ দীর্ঘদিনের। তাই রামকৃষ্ণ ও তিলকের আকচাআকচিও নতুন নয়। এমনকী, গত অগাস্টে মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব মেদিনীপুর সফর চলাকালীন, এই তিলক চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেই কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে পোস্টারও পড়েছিল। যে প্রসঙ্গ তুলে ধরে, তৃণমূলের ব্লক সভাপতিকে একহাত নিয়েছে বিজেপিও। পূর্ব মেদিনীপুরের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হতে চলেছে মহিষাদলে। তাই এক্ষেত্রে অন্তত দূরে থাকুক রাজনীতি, দাবি এলাকাবাসীর।
source https://www.rarebreaking.com/2019/12/invitation-politics-in-east-midnapore-tmc-two-group-tug-of-war.html

No comments:
Post a Comment