দিলীপ বাবুর কথায় ভরসা করে, গরু নিয়ে গোল্ড লোনের অফিসে ঋণ নিতে হাজির কৃষক - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 7 November 2019

দিলীপ বাবুর কথায় ভরসা করে, গরু নিয়ে গোল্ড লোনের অফিসে ঋণ নিতে হাজির কৃষক





'ভারতীয় গরুর দুধে সোনা রয়েছে, বিদেশি গরুর দুধে সোনা নেই। দেশি গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বের হয়।' গত সোমবার এমন মন্তব্য করে দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি দলীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এরপর তার এই মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে লঙ্কাকাণ্ড করে বসলেন, রাজ্যের এক কৃষক। নিজের খামার থেকে একটি গরু নিয়ে স্থানীয় ঋণ সংস্থার কাছে হাজির হয়ে তার দাবি, ‘সোনা নিন, ঋণ দিন।’

হ্যাঁ! এমন ঘটনাই ঘটেছে, হুগলির চণ্ডীতলার গরলগাছা এলাকায়। পেশায় কৃষক সুশান্ত মণ্ডল একটি বড় মাপের গরু এবং একটি বাছুর নিয়ে চলে গেলেন একটি গোল্ড লোনের অফিসে। তার দাবি, এই গরু আর বাছুর জমা রেখে তাকে ঋণ দেওয়া হোক। তিনি ব্যবসা বাড়াবেন।

২০টি গরু আছে সুশান্তর। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘কয়েক দিন ধরেই মিডিয়াতে দিলীপ ঘোষের কথা শুনেছি। তিনি বলেছেন গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি আছে। তাতে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বেরোবে। তাই আমি গিয়েছিলাম। ঋণ পেলে ব্যবসা বাড়ানোর ইচ্ছে ছিল। কিন্তু তারা নিতেই চাইল না।’

গোল্ড লোনের দফতর থেকে বেরিয়ে কৃষক সুশান্ত মণ্ডল সোজা চলে যান স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে। দাবি করেন ব্যবস্থা করে দেওয়ার। পঞ্চায়েত প্রধান মনোজ সিং বলেছেন, দিলীপবাবুর ওই কথার পর তাকেও এ রকম ঘটনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এর আগেও নাকি বেশ কয়েকজন তাকে গরু বন্ধক রেখে লোন পাওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছেন।


সোমবার দিলীপ ঘোষ বর্ধমান টাউন হলে গাভী কল্যাণ সমিতির সভায় যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় গরুর দুধে সোনার ভাগ থাকে। এ জন্য গরুর দুধের রং সোনালি হয়।’ এখানেই থামেননি দিলীপবাবু। তার কথায়, ‘দেশি গরুর কুঁজে স্বর্ণনাড়ি থাকে। সেখানে সূর্যের আলো পড়লেই সোনা বের হয়।’

অনুষ্ঠানে দিলীপবাবু পরামর্শের সুরে বলেন, ‘জার্সি গরুর দুধে ভারতীয় গরুর মতো গুণ নেই। আমাদের দেশের গরু মায়ের মতো। আর বিদেশি গরু আন্টির মতো।’ এরপর তিনি বলেন, ‘দেশি গরুর দুধে সব রকমের গুণ আছে। আমি অনেককে জানি, যারা গরুর দুধ আর গঙ্গাজল খেয়ে বছরের পর বছর বেঁচে আছেন।’


গরুর দুধে সোনা থাকার তত্ত্ব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই পড়ে যায়। দেশের অনেক প্রাণীবিজ্ঞানীও বিষয়টি শুনে কার্যত অবাক। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের এক অধ্যাপক তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, ‘গরুর দুধে সোনা : এমন গবেষণা কোথায় হয়েছে তা জানতে পারলে ধন্য হতাম।’

যদিও এর মধ্যে দিলীপ ঘোষও গরুর দুধে সোনার ভাগের ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক তথ্য পেশ করেছেন।পোল্যান্ডের একটি গবেষণাপত্র দেখিয়ে দাবি করেছেন, গরুর দুধে সোনা, প্ল্যাটিনামের মতো খনিজ পদার্থ আছে। কিন্তু গরলগাছার কৃষক সুশান্ত মণ্ডল গরু জমা দিয়ে টাকা নিতে সোজা গোল্ড লোনের দফতরে চলে যাবেন, তা বোধহয় আন্দাজও করতে পারেননি তিনি। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad