হাজরা ক্যাফের পুডিং সবার প্রিয়। এ পুডিং একবারও চেখে না দেখাটাকে রীতিমত অপরাধ হিসেবেই গণ্য করেন অনেকে। পুডিংয়ের ওপর অভিনব কায়দায় আলাদা করে ফোম দেওয়া হয়। এ রকমটা আর কোথাও পাওয়া যায় না। চিকেন স্টু, ফিশ ফ্রাই, মাটন কিংবা চিকেন কবিরাজিরও খুব চাহিদা। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, ব্যবসা ধরে রাখতে ঘনঘন মেনুতে বদল আনতে হয় না এদের।
সিসিডি-বারিস্তা-কেএফসি-র ভিড়ে দিব্যি টিকে আছে ১৯৩৭ সালের মেনু। রন্ধন প্রণালিতেও বদল হয়নি এতটুকু। নিয়মিত বেশ কিছুদিন যাতায়াতের সূত্রে ক্যাফেতুতো বন্ধুও হয়ে যান অনেকেই। ঝড়-জল-বৃষ্টি যাই হোক, ৩৬৫ দিন বিকেল ৪টা বাজতে না বাজতে খুলে যায় ক্যাফে। ছুটির দিনে আড্ডা গড়ায় বেশ রাত অবধি। রাত বাড়লে দোকানের ঝাঁপ পড়ে। কলকাতার সঙ্গে একটু একটু করে নিজেই জীবন্ত ইতিহাস হয়ে ওঠে হাজরা ক্যাফে।
১৯৩৭ সালে অমরনাথ ব্যানার্জি ভবানীপুর এলাকায় ক্যাফেটি প্রতিষ্ঠা করেন। আট দশকে একটুও পাল্টায়নি ক্যাফের চেহারা। একপাশে সেই খোপ খোপ করা কেবিন, সেই পুরোনো কাঠের চেয়ার, এমন কি সেই-ই পুরনো মেনু। চেহারা মোটেও ধোপদুরস্ত নয়, বাহারি আয়োজনও নেই। তা নিয়ে মাথাও ঘামান না অমরনাথ বাবুর ছেলে সিদ্ধেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, এই প্রজন্মের কত ছেলেমেয়ে এসে আমায় বলে যায়, এই সাবেকি আমেজটার জন্যই আসা, পাল্টে ফেলবেন না। খান তিরিশেক চেয়ারের একেকটাতে এসে এককালে বসতেন উত্তম কুমার, সুপ্রিয়া দেবি, মান্না দে-রা।
সূত্র: ডিবিএন24
No comments:
Post a Comment