প্রতীকী ছবি
আজকাল ঘরে-বাইরে কোনও জায়গাই যেন নিরাপদ নয়, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে। প্রতিদিন কোনও না কোনও নারী, মানুষরূপী শয়তানের লালসার শিকার হয়েই চলেছে। এবারে অটো চালকের লালসার মুখে পড়ল এক কিশোরী।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের মাটিগাড়া থানার অন্তর্গত একটি শপিং মল থেকে সিটি অটোতে করে বাড়ি ফেরার পথে এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল।
গত সোমবার রাতে মাটিগাড়া থানার খাপড়াইল সংলগ্ন এলাকার এক সিটি অটো চালক ও তার দুই বন্ধু মিলে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিশোরীর পরিবারের তরফে মঙ্গলবার মাটিগাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। মাটিগাড়া থানার পুলিশ ওই কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু জনবহুল এলাকার মধ্যে কেমন করে এই ঘটনা ঘটলো, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
ঘটনার ৪৮ ঘন্টা কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত মাটিগাড়া পুলিশ এই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলেও অভিযোগ উঠেছে। মাটিগাড়া থানার পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, আক্রান্ত কিশোরী সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। সোমবার ওই কিশোরী তার ছোট ভাই ও এক বান্ধবীকে নিয়ে মাটিগাড়ার শপিংমলে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে ঘোরাঘোরির পর রাত আটটা নাগাদ একটি সিটি অটোয় উঠে বাগডোগরা বাসস্ট্যান্ডের কাছে আসে তারা। নাবালিকার বান্ধবী সেখান থেকেই বাড়ি চলে যায়। এরপর ওই অটোচালক কিশোরীকে জানায় তাদের দুজনকেই বাড়িতে নামিয়ে দেবে। কিশোরী এই প্রস্তাবে প্রথমে রাজি হয়নি। কিন্তু অটোচালক জোর করে তাদেরকে অটোতে নিয়ে রওনা দেয়। অটো চলতে থাকে খাপড়াইল মোড়ের দিকে।
অটোয় অটোচালকের এক বন্ধুও ছিল। রাস্তায় অটোচালক ফোন করে আরও দুজনকে ডেকে নেয়, তাদেরও অটোতে তোলা হয়। খাপড়াইল এলাকায় একটি জঙ্গলের মধ্যে নিয়ে গিয়ে চালক ও তার দুই বন্ধু মিলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। সেই সময় চালকের অপর বন্ধু এলাকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিল বলেও অভিযোগ।
ওই কিশোরীর ভাই ঘটনার সময় সেখানেই ছিল। দিদির ওপর নির্মম অত্যাচার হতে দেখে সে ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অত্যাচার চালানোর সময় ওই কিশোরী চিৎকার করলেও এলাকাটি নির্জন হওয়ায়, কেউ সাড়া দিতে পারেনি। পরে দুষ্কৃতীরা দুজনকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। রাতে কিশোরী বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পুলিশের অনেক প্রচেষ্টার পরেও তাদের খোঁজ মেলেনি। অবশেষে গভীর রাতে বেশ কয়েকজন পথচারীর সাহায্য নিয়ে কিশোরী তার ভাইকে নিয়ে পৌঁছায় বাড়িতে এবং জানায় পুরো ঘটনা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজে চলছে তল্লাশি। সংগ্রহ করা হচ্ছে বেশকিছু ক্যামেরার ফুটেজ।

No comments:
Post a Comment