প্রতিবেশীর জমিতে ধান খাওয়া ও তাঁকে আটকানোকে কেন্দ্র করে রনক্ষেত্রের চেহারা নিল কোচবিহার সিতাই ব্লকের কাজলিকুড়া এলাকা।
সোমবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, জমিতে ঢুকে ছাগল ধান খাওয়ায় ওই ছাগলকে আটক করে বুদ্ধেশ্বর সরকার। অভিযোগ, এরপরেই ছাগলের মালিক কুড়ুল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে ওই ব্যক্তির উপর। কুড়ুল দিয়ে আক্রমণের ফলে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় সিতাই থানার পুলিশ। ওই ঘটনায় দুই মহিলাকেও আটক করে পুলিশ। অভিযোগ, এই দুই মহিলাও বুদ্ধেশ্বর সরকারকে আক্রমণ চালিয়েছে।
জানা গেছে এদিন বুদ্ধেশ্বর বাবুর প্রতিবেশী অর্জুনের একটি ছাগল তাঁর জমিতে ঢোকে। বুদ্ধেশ্বর বাবু ওই ছাগলকে আটকে রাখে বলে জানা গেছে। এরপরই দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বিতন্ডা। উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিবেশ। সেই সময় অর্জুনের স্ত্রী এবং পুত্রবধূ ওই ব্যক্তির মাথায় কুড়ুল দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। শুধু বুদ্ধেশ্বর বাবুই নয়, তাঁর স্ত্রীও এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়। প্রতিবেশীরা দুজনকে উদ্ধার করে দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা বুদ্ধেশ্বরবাবুকে মৃত বলে ঘোষণা করে। মৃতের স্ত্রীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
খবর পেয়ে সিতাই থানার ওসি সূর্যদীপ্ত ভট্টাচার্য সেখানে ছুটে যান এবং দুই মহিলাকে আটক করেন। দিনহাটা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মানবেন্দ্র দাস জানিয়েছেন, দুই প্রতিবেশীর পরিবারের গোলমালে এক ব্যক্তিকে কুড়ুল দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় যুক্ত থাকার কারনে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে বলে জানান তিনি। জানা গেছে, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত অর্জুন এখনও পলাতক। ইতিমধ্যেই গ্রামীণ এই বিবাদে রাজনৈতিক রং লাগতে শুরু করেছে।

No comments:
Post a Comment