আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা। মহত্মা গান্ধির হত্যাকারী নাথুরাম গডসেকে দেশভক্ত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি, যার ফলে আবারও বিরোধীরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন তার উপরে। এরপরেই বিতর্কের মুখে পড়ে প্রতিরক্ষা কমিটির পদ থেকে সরানো হয় সাধ্বী প্রজ্ঞাকে।
ডিএমকে সদস্য এ রাজা যখন স্পেশ্যাল প্রোটেকশন বিল নিয়ে কথা বলছিলেন, সেই সময়ে তিনি নাথুরাম গডসের প্রসঙ্গ তোলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে থামিয়ে দিয়ে সাধ্বী প্রজ্ঞা জানান এভাবে তিনি একজন দেশভক্তের উদাহরণ দিতে পারেন না। কংগ্রেস নেতারা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। এ রাজা জানান, ৩২ বছর ধরে গডসে, মহত্মা গান্ধির বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন।
সাধ্বীর এই মন্তব্যর ফলে উত্তাল হয়ে ওঠে লোকসভা। পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামতে হয় বিজেপি নেতাদের। কংগ্রেস নেতারা নাথুরাম গডসেকে নিয়ে এহেন মন্তব্যর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতারা। নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমা চাওয়া উচিৎ বলেও মন্তব্য করেছিলেন অনেকে। এর প্রতিবাদে ওয়াক আউট করেন কংগ্রেস সাংসদেরা।
এটাই প্রথম নয়, এর আগেও মালেগাঁও বিস্ফোরণের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত নাথুরাম গডসেকে দেশপ্রেমী বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি ভোপাল থেকে নির্বাচনে জয়লাভ করেছিলেন। এর আগেও তার মন্তব্য গেরুয়া শিবিরকে যথেষ্ট অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সতর্ক করেছিলেন। গান্ধীজিকে নিয়ে করা মন্তব্য যে সমর্থনযোগ্য নয়, তা তিনিও জানিয়েছিলেন। তিনি যে প্রজ্ঞা ঠাকুরকে ক্ষমা করবেন না তাও জানিয়েছিলেন।
এছাড়াও তিনি জানিয়েছিলেন, বাথরুম পরিষ্কার করার জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়নি, যার ফলে অনেকেই তার এই মন্তব্যর বিরোধিতা করেছিল। কেননা প্রধানমন্ত্রীর স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের বিরুদ্ধে করা এই মন্তব্যর ফলে কোপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। এছাড়াও সুষমা স্বরাজ এবং অরুন জেটলির মারা যাওয়ার পরে তিনি জানিয়েছিলেন বিজেপি নেতাদের ক্ষতি করার জন্য বিরোধীরা মরক শক্তি ব্যবহার করছেন। এছাড়াও বাবরি মসজিদ নিয়েও তিনি মন্তব্য করেছিলেন। অর্থাৎ আবারও এই সাংসদের জন্য প্রশ্নের মুখে বিজেপি শিবির। এছাড়াও তিনি দাবি করেছিলেন যে, গোমুত্র থেকে তার ক্যান্সার রোগ সেরে গিয়েছে। ব্রেস্ট ক্যান্সারের মত মারাত্মক রোগের উপশম হয়ে গিয়েছে গোমূত্রের কারণে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে এক সাক্ষাত্কারে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন। আবারও বেফাঁস মন্তব্য করে শিরোনামে এলেন সাধ্বী প্রজ্ঞা।
সূত্র: ইনকিলাব

No comments:
Post a Comment