‘আতা গাছে তোতাপাখি/ডালিম গাছে মউ,/ এতো ডাকি তবু কথা/ কও না কেন বউ?’ ছড়াটি শৈশবে পড়েননি এমন বাঙালির সংখ্যা হাতেগোনা। শৈশবের স্মৃতির সাথেই জড়িয়ে আছে মিষ্টি এই দেশি ফলটির নাম। সুঘ্রাণ ছড়ানো এই ফলটি যে শুধু দেখতে সুন্দর, বা খেতেই সুস্বাদু তা নয়; আমাদের শরীরের জন্যও দারুণ উপকারী ফল আতা।
প্রতি ১০০ গ্রাম আতা ফলে পাওয়া যায় ২৫ গ্রাম শর্করা, ৭২ গ্রাম পানি, ১.৭ গ্রাম প্রোটিন। এছাড়াও মিলবে ভিটামিন এ ৩৩ আইইউ, ভিটামিন সি ১৯২ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৭ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২১ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩৮২ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৪ মিলিগ্রাম। চলুন জেনে নিই শরীরের কী কী উপকারে আসে আতা ফল।
* আতা ফলে থাকা প্রচুর ক্যালসিয়াম শরীরের হাড় গঠন করে ও মজবুত রাখে।
* এতে রয়েছে পটাসিয়াম। এই খনিজ উপাদানটি রক্তবাহের প্রাচীরকে রিলাক্স রাখে, ফলে ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণে আসে রক্তচাপ। পাশাপাশি খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করে দিতেও ভূমিকা রাখে ফলটি।
* আতাফলে রয়েছে ফসফরাস, যা খাবার হজমের শক্তিকে বাড়িয়ে তুলে। এর খাদ্যআঁশ হজমশক্তি বাড়ায় ও পেটের সমস্যা দূর করে।
* এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’, যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে কার্যকর।
* আয়রনে পরিপূর্ণ আতাফল অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতার রোগীদের জন্য খুব উপকারী। শরীরে লোহিত রক্তকণিকা বাড়ায় ফলটি।
* আতা ফলে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ফ্রি রেডিক্যাল নিয়ন্ত্রণ করে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া ত্বকে বয়সের ছাপ পড়া রোধেও সাহায্য করে ফলটি। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’ চোখ, চুল ও ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।
* এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, যা মাংসপেশির জড়তা দূর করে। সেই সাথে হৃদরোগ হতে রক্ষা করে। তাছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম ও ভিটামিন ‘বি৬’ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে কমে যায় হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি।
(সংগৃহীত)
No comments:
Post a Comment