এই সংকেতগুলি পেলে পুরুষদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, 14 November 2019

এই সংকেতগুলি পেলে পুরুষদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে




যেকোনও শারীরিক সমস্যাতেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ভালো। তবে নারীদের তুলনায় ডাক্তারের কাছে কম যান পুরুষরা। তবে কিছু উপসর্গ আছে যা অবহেলা করা উচিৎ নয়। দেখে নিন ৭টি লক্ষণ যা দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তার দেখানো উচিৎ-

১) অ-কোষে পি- দেখা দেওয়া : অ-কোষ ফুলে যাওয়া বা পি- দেখা দেওয়া পুরুষের অতি পরিচিত সমস্যার মধ্যে একটি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পি-টা নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে এটা অ-কোষে ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। যদি পি- দীর্ঘস্থায়ী হয়, ব্যথা করে কিংবা আগের পি-গুলোর তুলনায় অন্যরকম মনে হয়, তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

২) পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে ব্যথা : এটি গেঁটেবাতের লক্ষণ। রোগটি নারী-পুরুষ দুই ক্ষেত্রেই হতে পারে। তবে পুরুষের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা তিনগুন বেশি। বিশেষত, বয়স্ক পুরুষদের প্রতি সাতজনের মধ্যে একজনের এই সমস্যা দেখা দেয়। যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ১৬ জনের মধ্যে একজন। বাত হওয়াকে গেঁটেবাত বলা হয়, যা পায়ের বুড়ো আঙ্গুলেই বেশি হয়। শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হওয়ার কারণে রক্ত ও হাড়ের জোড়ার চারপাশে সোডিয়াম সালফেটের স্ফটিক জমা হয়, ফলে গেঁটেবাত দেখা দেয়। সমস্যা মারাত্মক অবস্থা ধারণ করলে আক্রান্ত হাড়ের জোড়া স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৩) ম্যান বুবস : পুরুষের বুকে নারীদের মতো স্তন হওয়া তিনটি বিষয় ইঙ্গিত করে। প্রথমত- ওজন বেশি, সমাধান ওজন কমানো। দ্বিতীয়ত- ‘গাইনাকোমাস্টিয়া’। যা মূলতঃ ‘টেস্টোস্টেরন’ ও ‘ইস্ট্রোজেন’ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। এজন্য প্রয়োজন চিকিৎসকের পরামর্শ। তৃতীয়ত- যকৃতের সমস্যা। এটি হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। ফলে দেখা দেয় ‘গাইনাকোমাস্টিয়া’। বয়স্কদের ‘ম্যান বুবস’ হওয়াটা অ-কোষের সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

৪) ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া : পুরুষের প্রজনন উর্বরতাজনীত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে এটি। ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়ার অর্থ হল- পুরুষের অ-কোষ হরমোন তৈরি করছে কম। ডাক্তারি ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘অ্যানোসমিয়া’। এটা ‘কালম্যানস’ রোগের লক্ষণ হতে পারে, যা পুরুষের শরীরে হরমোনের অভাবজনিত রোগ।

৫) যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া : বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষের যৌনক্ষমতা কমতে থাকে। তবে ‘জার্নাল অব সেক্সুয়াল মেডিসিন’য়ের এক গবেষণা বলছে, চল্লিশে পা দেওয়ার আগেই প্রতি চারজনের মধ্যে একজনের পুরুষাঙ্গের দৃঢ়তাজনিত সমস্যা দেখা যায়। মানে শুধু বয়স নয়, মানসিক দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, ডায়বেটিস, হৃদরোগ ইত্যাদিও যৌনক্ষমতা কমে যাওয়ার জন্য দায়ী।

৬) নির্দিষ্ট স্থানে টাক : বয়স বাড়ার সঙ্গে কমবেশি সব পুরুষই চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত হন। তবে অনেকসময় এটা মারাত্মক রোগের লক্ষণও হতে পারে। ‘জার্নাল অব ক্লিনিকাল অনকোলজি’র এক গবেষণা অনুযায়ী, মাথার সামনের অংশে এবং তালুতে চুল যাদের কমে যাচ্ছে তাদের প্রোস্টেটে টিউমার হওয়ার উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। টাক পড়া ও প্রোস্টেট ক্যান্সার দু’টোরই কারণ হতে পারে শরীরে উচ্চমাত্রায় যৌন হরমোন। তাই চুল পড়ে যেতে থাকলে শরীরের কোথাও টিউমার আছে কিনা পরীক্ষা করাতে হবে।

৭) রাতে প্রস্রাব বেশি : ঘন ঘন প্রস্রাব, হুট করে প্রস্রাবের বেগ আসা, এমনকি শৌচাগারে যাওয়ার আগেই কাপড় নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাদি প্রোস্টেটয়ের মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ। যেমন- প্রোস্টেট ক্যান্সার, প্রোস্টেট ফুলে যাওয়া ইত্যাদি। তাই এমন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad