এমনই কিছু ছবি দেখতে বসে তীব্র আবেগের মুহূর্তে নিজেকে সামলানো দায় হয়ে পড়ে। স্থান-কাল-পাত্র না মেনেই বাঁধ ভেঙে নেমে আসে চোখের জল। পাশে বসে থাকা গিন্নি অথবা বান্ধবী কি তাই নিয়ে প্যাঁক দেন আপনাকে।
মনোবিদরা জানাচ্ছেন, শুধু সিনেমা নয়, বই পড়তে পড়তে, গান শুনতে শুনতে, এমনকি কোনও পেন্টিং দেখতে দেখতেও যাদের অশ্রুপাত ঘটে, তারা বিরল সৌভাগ্যবান। তাদের মতে, যারা এই সমস্যায় ভোগেন, তারা বিপুল নিঃস্বার্থপরতা থেকে এটা করে ফেলেন।
তারা অন্যের আবেগ বা অনুভূতিকে যতটা দ্রুত নিজের ভেতরে নিতে পারেন, ততটা অন্যরা পারেন না। এটাও ঠিক, যারা এই অশ্রুপাত-সমস্যায় ভোগেন, তারা আবার দ্রুত নিজস্ব জীবন ছন্দে ফিরেও আসতে পারেন।
বিষয়টা ততটা হালকা নয়। মনোবিদরা জানিয়েছেন, কোনও সিনেমা দেখতে গিয়ে অথবা বই পড়তে পড়তে আপনি তখনই চোখের জল ফেলবেন, যখন আপনি সেই সিনেমা বা বইয়ের ভেতরে নিজেকে খুঁজে পাবেন। অর্থাৎ, আপনার কোনও স্মৃতি সেই সিনেমা বা বইটি জাগিয়ে তুললেই, আপনি তার সঙ্গে একাত্ম বোধ করতে পারেন।
অবচেতনে সেই ছবি বা গ্রন্থের কোনও বিশেষ সিকোয়েন্সকে খুঁজে নেয় আপনার স্মৃতি। তার পরে তাকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নেয় সংলাপের জন্য। সেই সংলাপই আপনাকে আবেগস্পৃষ্ট করে।
এমন ক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে, আপনি এক বিরল গুণের অধিকারী। আপনার ভেতরে রয়েছে গভীর শিল্পবোধ। চোখের জল এখানে আপনার দুর্বলতার পরিচায়ক নয়, বরং তা আপনার অন্তর্নিহিত শক্তিকেই ব্যক্ত করে। আর শিল্পের প্রতি আপনার সংবেদন যে সত্যিই জেনুইন, তার প্রমাণ ওই চোখের জলই।
মনোবিদরা এই বিষয়টিকে ‘স্তাঁধাল সিনড্রোম’ বলে চিহ্নিত করেছেন। ১৯ শতকের ফরাসি সাহিত্যিক স্তাঁধালের নামানুসারে এই ‘অসুখ’-এর নাম রাখা হয়। ১৮১৭ সালে স্তাঁধাল তার ‘ফ্লোরেন্স : আ জার্নি ফ্রম মিলান টু রেজ্জিও’ গ্রন্থে তিনি এই সমস্যার কথা লিখেছিলেন।
১৯৭৯ সালে ইতালির মনোবিজ্ঞানী গ্রাজিয়েলা মাঘেরিনি প্রায় ১০০ মানুষকে সমীক্ষা করে এই সমস্যাকে চিহ্নিত করেন এবং তার নামকরণও করেন। তবে এটা কোনও ‘অসুখ’, না কি এটা এক অতি উচ্চপর্যায়ের সুখেরই নামান্তর, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে মনোবিদদের মধ্যে। তবে এটা যে একটা বিরল গুণ, তা স্বীকার করেন সকলেই।

No comments:
Post a Comment