নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার:- মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শেষ পর্যন্ত রাসমেলার সময়সূচী অপরিবর্তিত রাখছে কোচবিহার পৌরসভা। ১৩ নয় ১১ নভেম্বরই উদ্বোধন হচ্ছে রাসমেলা সাংস্কৃতিক মঞ্চের। প্রথা মেনে নির্দিষ্ট দিনেই রাসমেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্বোধনের নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঐতিহ্যের কোচবিহার রাসমেলায় এবার আসবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৩ নভেম্বর কোচবিহার সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই প্রথম রাজ্যের কোনও মুখ্যমন্ত্রী কোচবিহার রাসমেলায় আসছেন। কথা ছিল, সেদিনই তিনি রাসমেলার সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্বোধন করবেন। কিন্তু কোচবিহার পৌরসভার এই সিদ্ধান্তকে নিজেই নাকোচ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই পরম্পরা মেনে কোচবিহার দেবত্র ট্রাষ্ট বোর্ডের রাসযাত্রা ও কোচবিহার পৌরসভার রাসমেলা একই দিনে শুরু হচ্ছে।
কোচবিহার পৌরসভার পৌরপতি ভূষণ সিং সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই রাসমেলার সময়সূচীর কোনও রকম পরিবর্তন করা হচ্ছে না। আগামী ১১ নভেম্বর পৌরসভার সাংস্কৃতিক মঞ্চেরও উদ্বোধন হবে।’ ভূষণ বাবু বলেন, আমরা ভেবে ছিলাম মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে সাংস্কৃতিক মঞ্চের উদ্বোধন করাবো। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, তার আগমন উপলক্ষ্যে কোনও রকম সময়সূচী যেন পরিবর্তন না হয়। কারণ কোচবিহার রাসমেলার একটা ধারাবাহিক ইতিহাস রয়েছে, তাই পরম্পরা কোনও ভাবে যাতে ক্ষুন্ন না হয়, সেদিকে প্রথম নজর দেওয়া প্রয়োজন। তবে ১৩ তারিখ কোচবিহার এসে মেলায় ঘুরবেন,পুজা দেবেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তরপূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ কোচবিহার রাসমেলা। ১৮১২ সনে কার্তিকী পূর্ণিমা তিথিতে এই রাসযাত্রা উৎসবের আয়োজন করেন কোচবিহারের মহারাজা হরেন্দ্র নারায়ণ। ভেটাগুড়িতে তৎকালীন কোচবিহার রাজ্যের রাজধানী স্থানান্তর হয়। ওই দিন ছিল তার গৃহ প্রবেশ সেই উপলক্ষে এই রাসযাত্রা ও মেলার আয়োজন হয় ভেটাগুড়িতে। সেই থেকে এই উৎসব আজও হয়ে চলছে কোচবিহারে। বর্তমানে পক্ষকাল ব্যপি এই মেলা পরিচালনা করে কোচবিহার পৌরসভা ও রাসযাত্রা উপলক্ষ্যে মদনমোহন বাড়ির অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কোচবিহার দেবত্র ট্রাষ্ট বোর্ড।

No comments:
Post a Comment