ছোট-বড় সবারই প্রিয় খাবারের তালিকায় আজকাল জায়গা করে নিয়েছে চিকেন নাগেট। বাইরে মুচমুচে, ভেতরে নরম মাংস-মোহনীয় ঘ্রাণের সুস্বাদু এই খাবারটি চটজলদি খাবার হিসেবে অনেকেরই পছন্দ।
ফাস্টফুডের দোকানগুলো থেকে গরম গরম কেনা ছাড়াও আজকাল ফ্রোজেন নাগেটস কিনেও ঘরে ভেজে পরিবারের সবাইকে নিয়ে খেতে ভালোবাসি আজকাল আমরা।
কিন্তু যদি বলা হয়, ঝামেলামুক্ত মজাদার এই স্ন্যাকটি হতে পারে আপনার মৃত্যুর কারণ?
হ্যাঁ, গবেষকরা এমনই এক ভীতিকর তথ্য দিয়েছেন। তারা সতর্ক করেছেন, চিকেন নাগেটের মতো ‘আল্ট্রা-প্রসেসড’ (ব্যাপক পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত) খাদ্যদ্রব্য মানুষের হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণে বাড়ায়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার বলতে এমন সব খাবারকে বোঝায়, যেগুলো কারখানায় বেশ কয়েক ধাপে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব খাবার বেশিরভাগই হয় ‘রেডি টু ইট’, মানে প্যাকেট খুলেই খেয়ে ফেলা যায়, রান্নাবান্না করতে হয় না। অথবা শুধু গরম করে বা হালকা ভেজে নিলেই খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।
এ ধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে বার্গার, চিকেন নাগেট, আইসক্রিম, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বিভিন্ন রকম রেডি-মিল ইত্যাদি।
সম্প্রতি ফ্রান্স এবং ব্রাজিলের একদল বিজ্ঞানী এক লাখ ৫০ হাজার ফরাসি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর এ বিষয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্য তালিকায় আল্ট্রা-প্রসেসড জাতীয় খাবার ১০ শতাংশ বাড়ানোর ফলে মানুষের মধ্যে রক্তনালীজনিত হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে ১২ শতাংশ, শুধু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে ১৩ শতাংশ এবং রক্তনালীজনিত মস্তিষ্কের রোগের ঝুঁকি বাড়ছে ১১ শতাংশ। কেননা এ ধরনের খাবার বেশি খেলে তা মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকে প্রভাবিত করে বলে গবেষণাটিতে দেখা গেছে।
গবেষণাটির অংশ হিসেবে প্রক্রিয়াকরণ ছাড়া বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব পরীক্ষা করে দেখা গেছে সেসব খাবারে এ ধরনের ঝুঁকি অনেক কম।
এছাড়া স্পেনের ইউনিভার্সিটি অব নাভারার গবেষকরা গত ১০ বছর ধরে প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর আরেকটি গবেষণা চালিয়েছেন। সেখানে দেখা গেছে, প্রতিদিন চারবারের বেশি আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার খেলে যারা দু’বারের বেশি এমন খাবার খান না, তাদের তুলনায় অসুস্থতায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৬২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে, তা মৃত্যু যে কারণেই হোক। এমন প্রতিবারের অতিরিক্ত আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার গ্রহণ মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত।
সূত্র: ডিবিএন24
No comments:
Post a Comment