প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক ; এ যুগেও মানুষ ভূতের ভয় ঘরছাড়া হন ভাবা যায়। যে যুগে মানুষ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ব্যস্ত। আর সেই যুগেও দেখা গেল বীরভূমের একটি পরিবারকে ভূতের ভয় ঘরছাড়া হতে। ভাবতে অবাক লাগলেও ঘটনাটি সত্যি। বীরভূমের মহঃবাজার থানা এলাকার এক আদিবাসী পরিবারে। ওই আদিবাসী পরিবার মহঃবাজারের ভূতুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের চাতরমা আদিবাসী গ্রামের বাসিন্দা।
কিছু দিন ধরে ওই পরিবারের সকলেই ভূতের ভয় ঘর ছাড়া।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে ওই গ্রামের বাসিন্দা সুকল মুর্মু রাতের অন্ধকারে ভয় পান। তারপর থেকেই তিনি বারংবার অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। পরিবারের লোকজন তাকে নিয়ে যান তান্ত্রিকের কাছে। তান্ত্রিক অভিমত পোষণ করেন, সুকলের শরীরে ভূত বিরাজ করছে। যার কারনেই তিনি ভুলভাল বকছেন, তার বাড়িতে রয়েছে ভূত। তারপর থেকেই বাড়ির লোকজন ভূতের ভয়ে বাড়ি ছাড়া, আশ্রয় নিয়েছেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের দাদার বাড়িতে।
তান্ত্রিকের কথামতো ভুতে আক্রান্ত সুকল মুর্মু জানান, এগারোটা নাগাদ বাথরুম যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলে দেখতে পাই আকাশ থেকে নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল কিছু আমার বাড়িতে ঢুকে গেল। তারপরেই আমি বাড়ির ভিতরে ঢুকে দেখি ফ্যানের মধ্যে গান হচ্ছে এবং টিভির ভিতর থেকে আওয়াজ বের হচ্ছে। সাথে সাথে আমার কানের কাছে কেউ যেন বলছে, তুই এই বাড়ি ছেড়ে চলে যা, তা না হলে তোকে প্রাণে মেরে ফেলবো। সবকিছুই শুধুমাত্র আমার সাথে ঘটছে, আমার আশেপাশে থাকা কেউ কিছু শুনতে পাচ্ছে না বা দেখতেও পাচ্ছে না।” বাড়ি ছাড়ার কারণ হিসাবে এরপর তিনি জানান, “ আমরা সকলেই ভয় পেয়ে মহঃবাজারের শালদহা মোড়ে এক তান্ত্রিকের কাছে যাই।
সেখানেই গেলে ঝাড়ফুঁক করলে আমি সুস্থ হয়ে উঠি। কিন্তু তারপর থেকে ভয়ে বাড়িতে ঢুকতে পারছি না, আমাকে মেরে ফেলবে বলে। তারপর থেকে আমরা সপরিবারে আশ্রয় নিয়েছি পাশের গ্রামে দাদার বাড়িতে। তান্ত্রিক আমাদের বলেছেন উনি আমাদের বাড়িতে আসবেন এবং বাড়ি থেকে ভূত তাড়ানোর ব্যবস্থা করে দেবেন। তারপরেই আমরা বাড়িতে ফিরে আসবো।” ওই পরিবারের এক প্রতিবেশীর মুখ থেকে শোনা যায়, “কয়েকদিন আগে রাত ১১ টা নাগাদ হঠাৎ চেঁচামিচির শুনতে পাই। সেই চেঁচামেচি শুনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে দেখি সুকল অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বারবার বলছে ফ্যানের মধ্যে গান বাজছে এবং টিভি না চালিয়েও আওয়াজ বেরোচ্ছে।
কিন্তু সে সবকিছু আমরা শুনতে বা দেখতে পাইনি, আর সুকল বলছে বারবার তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকির কথা। তারপর আমরা তাকে তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যায়, তান্ত্রিক বলে ভূতের কথা। তারপর থেকেই ওরা বাড়ি ছাড়া।”
পি/ব
No comments:
Post a Comment