দেবশ্রী মজুমদারঃ পুরানো শত্রুতার জেরে প্রকাশ্যে দিবালোকে দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমায় খুন এক তৃণমূল কর্মী। ঘটনাটি ঘটনাটি বীরভূমের রামপুরহাট থানার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের কাছে। মৃত তৃণমূল কর্মীর নাম মোশারফ হোসেন ওরফে বাবুল খান (৫০)। বাড়ি রামপুরহাট থানার দখলবাটি গ্রামে।
জানা গিয়েছে, প্রথম থেকে কংগ্রেস করতেন বাবুলের পরিবার। তার বাবা হানিফ খান এক সময় কংগ্রেস পরিচালিত দখলবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। তবে এনিয়ে দলীয় স্তরে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরিবারের তরফে খুনের পিছনে গ্রামের বাসিন্দা কামা শেখের হাত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। গ্রাম সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালে কামার ভাই খুন হয়। তার পরের বছর খুন হয় কামার কাকার ছেলে। দুটি খুনের পিছনেই বাবুলের নাম জড়িয়েছিল বলে অভিযোগ। এছাড়া ২০০২ সালে ওই গ্রামে বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সেই ঘটনাতেও বাবুলের একটা সংযোগ পেয়েছিল পুলিশ। বেশ কিছু বিষয় নিয়েই বাবুলের সঙ্গে গ্রামে অশান্তি চলছিল। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির দ্বন্দ্ব বাধে। সে সময় কামা বিজেপির পক্ষ নিয়েছিল বলে অভিযোগ। ঝামেলা মেটাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে বাবুল। সেই থেকে তাদের মধ্যে আক্রোশ আরও বাড়ে। বাবুলের ভাই আশরাফ খান বলেন, “ঈদের সময় দাদাকে মারার চক্রান্ত করেছিল। কিন্তু দাদা সতর্ক হয়ে যাওয়ায় সে যাত্রা কিছু করতে পারেনি”। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের এক বাসিন্দা জানা, পঞ্চায়েতের টাকা পয়সা নিয়েও একটি গণ্ডগোল চলছিল। শনিবার সকালে রামপুরহাট বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল বাবুল।
সে সময় তাকে বোমা ছোড়া হয়। দুটি বোমা মাথায় লাগে। মাথার ঘিলু বেরিয়ে যায়। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেন বলেন, “বাবুল আমাদের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। সকালে বাজার করে মোটরবাইক নিয়ে দুনিগ্রাম রোড হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সে সময় দুষ্কৃতীরা তাকে বোমা মারে। ওদের পরিবার যার নাম করছে সেই কামাও আমাদের দলের কর্মী। তবে লোকসভা নির্বাচনের সময় বিজেপির সঙ্গে একটা ঝামেলা হয়। সেই ঝামেলার মধ্যস্থ করেছিল বাবুল। যার জন্য বিজেপির কয়েকজন জেলে রয়েছে। আমরা পুলিশকে সব দিক তদন্ত করে দেখতে বলেছি”।
জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেন, “ বিজেপি বোমাগুলির রাজনীতি করে তৃণমূল কর্মীদের দেখলেই বোমা মারছে। আইন আইনের পথে চলবে। বিজেপির তরফে জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, তৃণমূল শয়নে স্বপনে বিজেপি ভূত দেখছে। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ তৃণমূল নেতাদের যোগ পাচ্ছে। জেলায় ওরাই আমাদের ছয়জন কর্মীকে খুন করেছে। এই খুনের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই। ওরা নিজেদের মধ্যে টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে খুনোখুনি করে মরছে। আমরা খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়”। জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং বলেন, “খুনের কারণ এখনো জানা যায়নি। তদন্ত চলছে। কেউ আটক বা গ্রেফতার হয়নি”।
পি/ব
No comments:
Post a Comment