আজ বিলুপ্ত প্রায় গরিবের এসি ঘর - pcn page old

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, 3 November 2019

আজ বিলুপ্ত প্রায় গরিবের এসি ঘর



 প্রেসকার্ড নিউজ ডেস্ক ;     আজ ঐতিহ্যবাহী গ্রামবাংলার মাটির ঘর আধুনিকতার স্পর্শ আর কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে।এখন অনেকের কাছে তা কৌতুহলের বিষয়। বেশি দিন আগের কথা নয়, প্রতিটি গ্রামে নজরে পড়ত সুদৃশ্য অসংখ্য মাটিরঘর। কালের আবর্তে আধুনিকতার ছোঁয়ায় প্রায় বিলুপ্ত হতে বসেছে মাটি দিয়ে তৈরি ঘর। অত্যন্ত আরামদায়ক মাটির আবাস দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বিত্তবানরাও একসময় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করতেন। এখন মাটির ঘর ভেঙে নির্মাণ করা হচ্ছে ইটের তৈরি পাকা দালান।


মাটির ঘরগুলো গরমে শীতল আর শীতে উষ্ণ। বর্তমানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের মতো। নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা একসময় মাটির ঘরের গ্রাম হিসেবে খ্যাত ছিল। শুধু নওগাঁয় নয়, ত্রিপুরা রাজ্যসহ আরো করেকটি রাজ্যেও চোখে পড়ত এই মাটিরঘর। এঁটেল মাটি দিয়ে এসব ঘর তৈরি করা হতো। মাটি জল দিয়ে ভিজিয়ে কাদায় পরিণত করে সেই কাদা ২০-৩০ ইঞ্চি চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হয়। এ দেয়াল তৈরি করতে বেশ সময় লাগতো। কারণ একসাথে বেশি উঁচু করে তৈরি করা যায় না। প্রতিবার এক দেড় ফুট উঁচু করে দেয়াল তৈরি করা হয়। কয়েকদিন পর শুকিয়ে গেলে আবার তার উপর একই উচ্চতার দেয়াল তৈরি করা হয়। এভাবে দেয়াল ১০-১২ ফুট উঁচু হলে বেশ কিছুদিন ধরে রোদে শুকানো হয়। তারপর এই দেয়ালের ওপর বাঁশের চাল তৈরি করে খড় বা টিন দিয়ে ছাউনি দেয়া হয়।



একটি মাটির ঘর তৈরি করতে প্রায় দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগতো। মাটির ঘর শীত গরম উভয় মৌসুমে বেশ আরামদায়ক। তবে বন্যা, ভূমিকম্প বা প্রবল ঝড় না হলে এসব ঘর শতাধিক বছর পর্যন্ত টিকে থাকে। অনেক সময় মাটির ঘর দোতলা পর্যন্ত করা হয়। এ সমস্ত ঘর বেশি বড় হয় না। গৃহিণীরা তাদের নরম হাতের কোমল ছোঁয়ায় নিপুণভাবে কাঁদা দিয়ে লেপে মাটির ঘরের দেয়ালগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতো। এখন আর সেই মাটির ঘর চোখে পড়ে না বললেই চলে। তবে এখনো বাপ-দাদার স্মৃতি ধরে রাখতে অনেকেই দু’একটা মাটির ঘর টিকিয়ে রেখেছে। বর্তমানে মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিয়েছে ইট, সিমেন্ট, বালি ও রডের তৈরি পাকা ঘর।



মাটির ঘরগুলো বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশেষ ক্ষতিসাধন হয় বলেই মানুষ ইট সিমেন্টের ঘর-বাড়ি নির্মাণে আগ্রহী হচ্ছে। প্রতি বছর মাটির ঘরে খরচ না করে একবারে বেশি খরচ হলেও পাকা ঘর-বাড়িই নির্মাণ করছেন। বর্তমানে মাটির ঘরের সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় শূন্যের কাছাকাছিতে ঠেকেছে। হয়ত সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন মাটির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে হারিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্মের মানুষের কাছে মাটির ঘর রূপকথার গল্পের মতো মনে হবে।



পি/ব

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad